Showing posts with label একটি কবিতা. Show all posts
Showing posts with label একটি কবিতা. Show all posts

Saturday, February 24, 2024

 নান কিং

সুমন মল্লিক


টেবিলের চারদিকে চারজন ব্যর্থ প্রেমিক
ছোলা ভাগ করে খাচ্ছে – সঙ্গে কৃষ্ণবর্ণ পানীয়৷
সন্ধের এই সময়টা নান কিং ফাঁকাই থাকে৷

চারটি স্ফটিক পানপাত্র৷
একটিতে তৃপ্তির অপেক্ষা৷
একটিতে মিলনের অপেক্ষা৷
একটিতে প্রেমের অপেক্ষা৷
একটিতে ভাগ্যের অপেক্ষা৷

১, ২, ৩, ৪
ডুব, ডুব, ডুব, ডুব

জ্বালাপোড়া পাকস্থলি থেকে বুক হয়ে
বেরিয়ে আসছে মুখ দিয়ে কথার সঙ্গে
আর চারটি চেয়ার যেন 
উড়ে যাচ্ছে চারটি ভেঙে যাবার মুহূর্তে

আজ নান কিং-এ ডুবে যাবার দিন৷ কবিতার ছুটি৷ 

 শুভ্রনীল চক্রবর্ত্তীর কবিতা

আমার ভারতবর্ষ 


আজ তাপমাত্রা ৪০ ছাড়িয়েছে, 
পথে যাদের থাকার কথা ছিল তাদের হঠাৎ দেখতে পারছিনা - 
সুড়ঙ্গের ভেতর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে পিঁপড়ের দল 
খাদ্যের সন্ধানে আবহাওয়া দপ্তর ___ 

তাপমাত্রা ৪০ হোক অথবা ৪ ওরা রোজ এখানেই থাকে, আমার সাথে রোজ চোখাচুখি হয় -
         কথা বলার সাহস পাইনি কোনোদিন, 
         
যে ছেলেটা গোলাপ বেঁচবে বলে জন্মেছিল - 
       সিগন্যাল শুধু একা তারই __ আমরা তো ক্ষণিকের অতিথি 
       
বৃষ্টির দিনে দেখেছি প্লাস্টিক জড়িয়ে ওদের শরীর কেঁপে ওঠে উষ্ণ হাতে _ আমি লজ্জায় চোখ সরিয়ে নি,
    আমার সাহস হয়না আর ওদের কে নতুন ফুটপাথ কিনে দেওয়ার 

এভাবেই ইশারায় ওরা আমার খুব কাছের হয়ে ওঠে, পিঁপড়েদের জন্য আমি একটা দেশলাই বাক্স কিনি __ কিনি নতুন সুড়ঙ্গ ___ নতুন ফুটপাথ 

এভাবেই সিগন্যালে রোজ আমায় দ্যাখে 
আর মুচকি হেসে চলে যায় 
        - আমার ভারতবর্ষ 

 দীপান্বিতা রায়ের কবিতা

সহজ 

রোদটুকু দিলে,
অর্জন  এত সহজ তো নয়,
বলো সঙ্গত রাখি কোন রাগে !

 ঘোর বৈশাখ  দিনে,
এই নীল ধুপছায়া,
এই তুমি ছুঁয়ে যাও কত সংলাপে।


বলো সঙ্গত রাখি কোন রাগে,
যদি  অক্ষয় কিছু থাকে,
পূণ্য আলোর মতোন,

আমাকেও বিভাজনে দাও?
খন্ডিত এই আলো বিবরণী
কতটুকু ঘিরে আর আমার  যাপন?
 

স্পর্ধার অভিধানে  প্রকট ছুঁয়েছি
সাত্বীক  ব্যবধান হলে।
রেখেছ চোখে  কবেকার মায়া।


কেন বোধের আড়ালে,
তুমি ঘন হয়ে নীরবতা হলে,
বর্জন  এতো সহজিয়া?

 ক্যানভাস 

- রঞ্জন চক্রবর্ত্তী

রং সত্ত্বাকে ঢেকে ফেলল, উল্লম্ব ও কৌণিক রেখা

আমাকে প্রকাশ করল, তুলির আঁচড়ে 

জ্যামিতিক অবয়ব ফুটে উঠল 

ক্যানভাসে। তার পর অস্থির সময়

বয়স বাড়িয়ে দিয়ে গেল, এক রাশ ধুলোর আস্তরণ

জমল ছবির উপর, সুতরাং 

শুধু স্মৃতিটুকু সঙ্গে নিয়ে 

লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা। যেভাবে

আলো-আঁধারের খেলা চিরকাল চলে

অনেকটা সেভাবেই। হন্যমান এই মানবশরীর

এক দিন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই 

বিলীন হবে জানি, কিন্তু আমার মন

ক্যানভাসের ফ্রেমে বন্দী থেকেও চাইবে

তোমাকে ছুঁয়ে যেতে।


মুহূর্ত 

শঙ্খ মিত্র

বাতাসের বিশ্বাসঘাতকতায় ভরসা রাখতে হয়
অনুমান ক্ষমতার ওপর
তুমি বলেছিলে ঘুমের ভিতর কান্না পায় না আর
অথচ প্রতিটি দহনের পর
চোখ হয়ে ওঠে ডালিম ফুলের মত লাল

এর কোন ব্যত্যয় ঘটেনি এ যাবৎ কালে

জলের শরীরে সদ্য ফুটে উঠল একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র
তোমার চিবুক থেকে আলো ছড়িয়ে দিল
আশ্চর্য অনির্বচনীয় তিল

এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ
কিছুটা স্থিতি ও সংক্ষিপ্ত পরিধির ভিতর
একে একে অভিনীত হলো পদাবলী পর্যায়

সমস্ত বৈধ শপথ ভেঙে গিয়ে
ধীরে ধীরে খুলে গেল কঠিন আগল ও সংযম 

আঁশ বটিতে লেগে থাকে রক্ত 

সঙ্গীতা মুখার্জী 

শুভ হয়ে ওঠার দ্রাঘিমারেখা থেকে 
অন্য কোনো হাতের শব্দ লেখা থাকে,
যাকে ধার করে জীবন চলতেই পারে।
কিন্তু রূপক নামক স্থানে ছিদ্র 
তাই বিগলিত অনুপাত থেকে অক্ষর কথা শুরু;
রান্নার আঁশ বটিতে লেগে থাকে রক্তের রঙ।
সুখী হতে চাইলে রুটিন মতো মেপে দু হাত পিছনে অথবা আগে...
শক্ত করে ধরে থাকার প্রয়াস বৃথা,
সাধ্য মতো প্রয়াসে কষ্ট বাড়ে,
জমানো টাকার মূল্যের চেয়ে
ঘামে ভেজা পকেট উৎকৃষ্ট হয়ে যায়
চরম অনিশ্চয়তা কাটাতে।

তুমি আমার জন্ম দাও
অথচ আমি জীবিত অবস্থায়
মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হই।

 

অজয় সাহার কবিতা 
"খোলা চিঠি"

জ‍্যোৎস্না নগরের মায়াবী রূপ দেখছি।
না কোন নিয়মের গণ্ডী নেই,
ওখানে গাভীর মতো ভেসে বেড়ায় মেঘমালা।
জানি গো জানি, বৃষ্টি নামলেই ভিজিয়ে দেবে মানব জমিন।
বেশ লাগে, স্বপ্নালোকে নীলাম্বরীর ভেজা ডানায় ভেসে থাকতে।
জান, তখন আমার মানব জমিনে চলে শব্দের বীজবপন।
আহা....হা, এমন কতো শব্দমালা জুড়ে জুড়ে
বুনে ফেলি বৃক্ষসম কবিতা।
কেউ কেউ হেসে বলে, ধ‍্যুৎ, তুই দেখছি আস্ত পাগল?
স্বপ্ন কি সত‍্যি হয়?
ওসব বোকারা বলে বুঝলি বোকারা।
আমি জোর গলায় বলি,
চাইলেই সত‍্যি হয়, এ আমার বিশ্বাস।
বেশ কাটছিল , বিশ্বাসকে ভালোবেসে।
তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো মাস.....বছর....।

এখানে আর বর্ষা নামে না,
ঘন মেঘের ঘনঘটা এখন আমার মানব জমিনে,
স্বপ্নেরা পিঠের উপর বজ্রচাবুক হানে।
আমার চারপাশে এখন অমাবস‍্যার ঘোর অমানিশা।
কবিতারা আর ধরা দেয় না মনের গহীনে কলমের ডগায়।
স্তব্ধ হয়েছে বাতাস।
ওগো বন্ধু এসো, তোমার জলভরা কলস উপুড় করে দাও
এ তপ্ত ধরণীর বুকে,
সব কালো মেঘ সরে যাক
এ হৃদয়াকাশ হোক সূচিস্নাত।
জানি, তোমার কোন ঘর নেই,
নেই কোন ঠিকানা।
অপেক্ষার বাতায়নে আঁখিজলে বসে আছি,
জানি, আমার এ খোলা চিঠি
নিশ্চয়ই পৌঁছবে কোন এক দিন।

 "উদভ্রান্ত"

 স্বপন কুমার সরকার।
        
        
মেঘেদের হাঙ্গার স্ট্রাইক দেখে 
ভীত সন্ত্রস্ত সূর্যের শাসন!
ওরা লড়াই করেই চাইছে 
গোটা আকাশের আধিপত্যে।

চাতকের হাসিতে উল্লসিত বৃষ্টি
মধ্যিখানে ফায়দা লুটছে
প্রবাদের সেই গৌরী সেন
সে কি আর বেশিক্ষণ!

ভরসাহীন নৈঋত কখন ঝড় তোলে
ককটেল করা মন নিয়ে
সদাশিব সারাক্ষণ
দীর্ঘ শ্বাস থেকে চুরি করছে আয়ু।

নিষেধ ভাঙার মজা লুটছে
মান্ধাতার অনুশাসন
অকাজের তেজ উন্মত্ত সুরে
ধরেছে বিদ্রোহের গান।

 আঁতুড়ের গন্ধ 

 মাহফুজ রিপন

এরিস পর্বতের গুহায় জন্ম দেবশিশুটির
তাকে প্রদক্ষিণ করে শিমুলতুল মেঘ।
বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় আঁতুড়ের গন্ধ।
লজেন্সের খোসার মতো পড়ে আছে শরীর
অন্তরীক্ষ জুড়ে মানবতার করুন নিনাদ।
খুনিদের রক্তাক্ত হাত পাথর হয়ে ওঠে-
নাবিকের হাল-মাস্তুল সব ছিঁড়ে গেল।
দেবশিশুর কান্নায়, কালিন্দীর
জলের রঙ বদল হয়ে যায়..!

 কৌশিক দাসের গদ্য কবিতা 

মহাদেব এখন কুপোকাত


পূর্ণিমা অমাবস্যার মতো মানুষে-মানুষে যৌনতা যখন জোয়ার-ভাটা আনে, তখন আমার শিব ঠাকুর হতে ইচ্ছা হয়।
ইউফ্রেটিস-তুরানী জাতি অমরত্ব চেয়ে একসময় সর্পদেবীর পুজো করতো 
তারা কখনও চায়নি কোনওদিন ভোরের বিছানায় সর্পদেবীর পাশে শুতে।

বাসুকি সজাগ থাকলে, মহাদেব স্বস্তিতে থাকতো।
মহাদেবের ইচ্ছে হয়েছিল কখনও পার্বতীকে লুকিয়ে পদ্মার সাথে এক রাত কাটাবে।

বাসুকি এখন বিষের জ্বালা অনুভব করছে!
এখন শিব ঠাকুরের গলা থেকে নেমে এসে সে পাতাললোকে আশ্রয় নিয়েছে বোন পদ্মার ঘরে।
সমুদ্র মন্থনের দড়ির মতো আরও একবার সে আটকে রয়ে গেছে।

নমনীয়তায় ভাঁজ পড়ে যাওয়া শিরদাঁড়াটা সেখানে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো।
কৌলীন্য আর কুপ্রথায়, মহাদেব এখন রোজ খাবার খাচ্ছে রাস্তায় ভিখারীদের সাথে শাল পাতার থালায়।

পদ্মার রূপে কামাতুর শিব এখন শিশ্ন হাতে সম্ভোগ মেটাতে চাইছে।
লাস ভেগাসের দরজায় দাঁড়িয়ে সমুদ্রের মাঝে ল্যানকাং দ্বীপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নির্দ্বিধায়।

স্পর্শকাতর আবদারে মোহিনী পদ্মা দ্বিধাগ্রস্থ এক যেন সুইফট পাখীর মতো আকাশে উড়তে থাকা শিব ঠাকুরের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।
পেঙ্গুইন হয়ে সে কেবল মাটিতে ভাসতে থাকে 
আর পদ্মার জনক ডাকে হেজহগ প্রাণীর মতো কিউরিয়াস মাইন্ডের সাথে শীতল হয়ে যায়।

বাসুকি মায়ের মাটির মূর্তি তখন যেন ভুরিশ্রবা সাত্যকির শিরচ্ছেদ করছে আর পদ্মা অর্জুন হয়ে জনক শিব ঠাকুরের বাহু দ্বিখণ্ডিত করে যজ্ঞ কুণ্ডতে মা গঙ্গার জল ঢালছে। 

বুকের পশ্চিমদিকে রাক্ষস-তল হ্রদকে হত্যা করে মানস সরোবরে ডুব দিতে-দিতে ভেলায় পদ্মাকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেব গিয়ে ঠেকে শাম্বালা নগরের পর্বতের চূড়ায়।

লেমিং প্রাণীর মতো অভিমানী পার্বতী সেইবার আত্মহত্যা করেছিল ডলফিনের মতো নিশ্বাস চেপে পতি নিন্দা শুনে।
অতৃপ্ত মাদ্রীর মতো পরলোকে ভগবান শিবের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার জন্য সে স্বেচ্ছায় সহমরণে যেতেও রাজি।
রাজা কুন্তিভোজ ঠিক যেমন দুর্বাসা মুনির সেবায় পাঠিয়ে ছিলেন মানস কন্যা কুন্তীকে, তেমনি পার্বতীলোকে ভগবান শিব এনে তুললেন সর্পদেবী কন্যা পদ্মার স্বয়ং মূর্তিকে।

ক্রমশ আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া মস্তিষ্ক
সতী এখন শিব-পদ্মার সম্পর্ক-এর মাঝে লাইমলাইটে সতীন খুঁজে বেড়াই।
ফ্রেন্স অ্যাঞ্জেল ফিশ-এর মতো ভগবান শিবের পতি-ভালবাসায় সতী অন্ধ করে দেয় পদ্মার একটি চোখ।
মানস কন্যার দুঃখে শিব ঠাকুর এখন বেলপাতা চিবোচ্ছে আর কামদেব বিষ্ণুর সাথে সলাপরামর্শ করছে, হিমালয় পর্বতের ছাদে শুয়ে।

প্রাণজি বসাক এর কবিতা 

রূপ মহল


ঘুরে ফিরে ইউটার্ণ নিতে নিতে বেজে ওঠে সাইরেন 

ছড়িয়ে দিতে দিতে জারিত বোধ রোদের আস্ফালন


ফুটন্ত ফুল আর তোমার আত্মভোলা রূপ কেন যেন

বুকের গহ্বরে তলিয়ে যেতে যেতে আঁধার উচাটন 


আলোর খেলায় মহাজগৎ ভালোবাসাও এক খেলা 

রোদে পুড়ে পুড়ে ভালো নির্মিত বাসা রূপগন্ধ মেলা

দৃশ্য বদল

বিবেকানন্দ বসাক

রোদ পড়লে সর্ষে ক্ষেতে রং ছড়িয়ে পড়ে
পুকুরের জলে মেঘেদের ডুবসাঁতার 
রিয়েল লাইফ থেকে দৃশ্য বদল হয়
প্রলম্বিত ছায়ার কাছে ঝুঁকে পড়ে গাছ
আলপথে শিশুর পায়ের ছাপ ধরে 
প্রজন্মের পথচলা চিনে নেয় কেউ...

অভিনেতা

উত্তম দেবনাথ
--------------------

সারারাত জেগে থাকে চাঁদ
নিজেকে সূর্য হিসেবে আঁকবে বলে
হাঁটতে হাঁটতে শতসহস্র জন্ম মৃত্যুর পর চাঁদ 
এগিয়ে যায় নিজেকে নিখুঁত অভিনেতা গড়বে বলে।

পথে পথে মৃত মানুষের হাতে
একতারা দেখতে দেখতে ভুল গান গেয়ে ওঠে
সুর ছড়িয়ে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবহেলিত পাড়া গাঁয়ে।

লজ্জাবতী চাঁদকে সূর্য ভেবে
মনের পাতা খুলে দিলে উপোস থাকতে হয় ক্লোরোফিলের অভাবে।

বিপ্লবী বটবৃক্ষ সূর্য ও চাঁদদের  শিক্ষক।

ফসিলের আয়না

অনুপ মণ্ডল


লাফিয়ে পার হয়ে যাচ্ছি যথেচ্ছ যতিচিহ্ন;কখনও জাম্পকাট
প্ররোচিত ডানা থেকে
ঝরে পড়ে ইতিবৃত্তের প্রাচীনতম মুখ,বিনম্র ফসল
বাতাসকে হেনস্থা না করেই প্রক্ষালন করি
মুখ পরাঙমুখ হয়
হাতের কারুণ্য থেকে দুবেলা জল গলে গলে পড়ে
অন্ধ হাতের বারংবার পেলবতা
আমার অবাধ্যতাকে মসৃণ করে তুলেছে

পুরুষের প্রকৃত বিভব আবিস্কার করে গুহার দেয়ালে
আদিম পোয়াতি নারী
দু'পায়ের ফাঁকে রাখে প্রাথমিক আগুন
কয়লার আঁচড়ে একের পর এক ম্যামথ শিকার
জলের নিম্ন মেধায় বন্যার সম্ভাবনা ছিল কি?
সময়ের খণ্ডন কিংবা নতমুখী বিশ্বাস!
পুরুষের মধ্যে কোনও বিনিময় মূল্য ছিল না!

রাগমোচনের স্বচ্ছতা প্রাক-আদিম নারীর আয়নায় গচ্ছিত আছে

ঝিমিয়ে পড়া জীবনে একজন পার্টনারশিপ দরকার

সম্পা পাল 


ধরুন আপনি ঝিমিয়ে পড়েছেন

রাস্তা এখনও ঢের বাকি

সূর্যটা মাথার ওপরে গনগনে।

নুন ,জল বাড়িতেই ছেড়ে এসেছেন ...


ড্রইংরুমে ভারত -পাকিস্তান টানটান উত্তেজনায়

ধীরে ধীরে স্কোর বোর্ডে সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

নির্বাক চোখ ধারাভাষ্যের দিকে ।


একটু ভেবে দেখুন তো!

এসময়ে একজন ভালো পার্টারনশিপ হলে কেমন হয় ?


বাকি রাস্তা এবং স্কোর বোর্ড !


তাহলে আর দেরি কিসে ?




 

নেই-নেই

পাখি নেই গাছ নেই
পুকুরের মাছ নেই
কয়লার আঁচ নেই
মন লাগে কাজে না।


বৈশাখী ঝড় নেই
ডাল মড়মড় নেই
ছায়াঘেরা ঘর নেই
সেই সুর বাজে না।


পাড়া প্রতিবেশী নেই
বন্ধুও বেশি নেই
চারিদিক মেসিনেই
ভরে গেছে ভাইরে।

ধান নেই মাঠ নেই
পুকুরের ঘাট নেই
পুরানো সে অতীতেই
চল্ ফিরে যাইরে।

অভিজিৎ মান্নার কবিতা

নানা রঙের দিন 

তাদের সাথে খেলা গুলি 
রইলো পড়ে পথের বাঁকে 
জো‌ৎস্নাগোলা রাতের মাঝে 
হঠাৎ জেগে ঘুমের ফাঁকে ।
এত্ত এত্ত স্মৃতির চৃড়া 
টপকে যায় মাথার ছাদ 
নানা রঙের দিনের বিকেল 
এখন কেমন অন্য স্বাদ ।
কে দিবিরে ফিরিয়ে সেসব 
চোর কা৺টাতে হুড়োহুড়ি 
আকাশ থেকে নামিয়ে দেনা 
ফেলে আসা স্বপ্নপুরী। 

শিল্পী  

বেবী সাউ 

স্রোত হেরে যায়। যেদিকে গভীর। কোনও শ্যাওলাঘন নীপবন 
তাকে ফেরাতে পারেনি 

অতিথি সময় মাত্র... ফেরা নিয়ে আসে।
বুকের আঁচলে লেখে চাল, ডাল, দু'টি বেগুন কাহন...  

তারপর হেঁটে  যায় 
মৃত কফিনের দিকে।  

মস আর শ্যাম তরুবর 
পথ এঁকে দেয়।  ছায়াঘন। অন্ধ। 

মৃত্যুর পর

 

সমর দেব

 

একান্ন বছর পাঁচ মাস তিনদিনের শেষে

এক আবছায়া বিকেলে আমি মারা গেলাম

মৃত্যুর ঠিক আগে আমার কিচ্ছু মনে আসেনি

শুধু মনে পড়েছিল জন্মের আদি মুহূর্তটি

সেটা ছিল অঘ্রাণের মৃদু শীতের এক শেষরাত

আকাশে ব্যস্ততা ছিল তারাদের অনেকেই ততক্ষণে

ডুবে গেছে হিরণ্ময় আলোর গর্ভে

তার অনেক আগে চলে গেছে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ

প্রসূতিকক্ষে বিজলি আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছিল

সমস্ত দৃশ্য কথা বলছিল ডাক্তার নার্সেরা, তাদের

কণ্ঠের আওয়াজ আমার কানে বাজছিল

সুরেলা সংগীতের মতো তাতে আবাহন ছিল

এটুকুই জন্মমুহূর্তের স্মৃতি ভেসে উঠেছিল

শেষের বেলায়। আশ্চর্য, আমার ক্ষুধা ছিল না!

চৈতালি ধরিত্রীকন‍্যার কবিতা 

জাতপাগল


সীমানা লঙ্ঘন করে

               দাঁড়িয়েছে কেউ--

 সীমানার কমা দারি যতিচহ্ন

                                ফেলে। 


এখানে এলে 

নিজেকে ঘাসের শিকড় ছুঁয়ে তারার অগুন্তি আকাশে ভাসিয়ে

                                 দে'য়া যায় 

অন‍্যরা বোঝে দেয়াল কত ভারী 

এবং  উঁচু রাখা যায় 

যেখান থেকে 

মাটির পৃথিবী দেখা যায় না


আমরা জাতপাগল

তাই দেখতে পারি

মাটির কপাল

 আর 

তার অন্তিম দীর্ঘশ্বাস....