Showing posts with label গুচ্ছ কবিতা. Show all posts
Showing posts with label গুচ্ছ কবিতা. Show all posts

Saturday, February 24, 2024

 অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

দীপ্তি প্যাভেলিয়ান 


তাহলে শেষ পর্যন্ত কালি ও থেকে গেল ধোঁয়ার আসেপাশে। 

কিছুদিনের এই এঁকে এঁকে ওঠায় দুপুরের যে হাট ছিল 

তাকে আলাপ করেছি লেবুর হুইলে। 

#

তাও নতুন রোদের তুমি ঠিকানা দিলে না।

#

গেলে না ভূগোল কেটে ইতিহাস ছিঁড়ে রেখে। 

#

ছুটিকে আর গাইতে বোলো না। ওরা শরীরের চরে দ্বীপ বসিয়ে গেছে। 

যাদের আজকাল ডিয়ার লিখতেই সেই প্রীতি 


বুকের নৌকায় প্রথম লিরিলেই টানতে ভাল লাগে।



আমি ও দু এক লাইন.....


ধিক্কারের আরো কিছু নতুন শব্দ চাই


থুতু যতটা গিলেছি ততটাই উগড়ে দিই সারা শরীরে যখন


কোথাও ঈশ্বরের বাচ্চারা  মানুষ লুকোচ্ছে নতুন মুন্সিয়ানায়

#

সকাল হলেই আবার কত কত মানুষ


ভিজে যাচ্ছে যারা চুরির অচেনা গন্ধে



অনিবার্য


আকাশ পুড়ছে

#

মাটির কিছুটা ওপরে তখন সেইসব লিখিত কর্মকাণ্ড

#

তথ্যানুযায়ী ক্লাসরুম খুলে যাচ্ছে প্রসবের বেওয়ারিশ ঠিকানায়

মাতৃত্বকালীন ছুটি চেয়ে নিতে।

#

একটা সাদা কাগজও নতুন করে কোথাও পৌঁছে দিতে।


 গানদীঘির কবিতা

সুবীর সরকার

১.
রাজবাড়ীর আলো সাগরদীঘির জলে
পৌষের ঘন হয়ে ওঠা শীত
শহরে ছড়িয়ে পড়ে সুরেন বসুনিয়ার ভাওয়াইয়া
ঘোড়া ছোটাচ্ছেন রাজকুমার ইন্দ্রজিৎ।
২.
সাগরদীঘি সাক্ষী আছে তিরিশ হাতির শিকার
                                                            মিছিল
জলে শুড় ডোবানো পাটহস্তি।
মেজর জেনকিংস পটেটো চিপস খাচ্ছেন।
আর সাগরদীঘির পাশে ব্রজেন শীলের ঘোড়া
৩.
ফেলে আসা ঘরবাড়ির গল্প সাগরদীঘির কাছে রেখে
                                                                আসি
 তারপর সাগরদীঘিতে বেড়াতে আসে
                                      তোর্সাচরের জোনাকি
 আর জোতদার খুঁজে পান হারিয়ে যাওয়া
                                                      ঘোড়াটিকে
 ৪.
 সাগরদীঘির কিনারে কিনারে কত কত কাহিনি
 জলে নেমে যায় রাজবাড়ীর হাঁস।
 মহারানী ইন্দিরা দেবী হাওয়া খেতে আসেন
 হেমেন দাদু শোনাতে থাকেন কামতা রাজ্যের কথা
 ভুলগুলি ধরিয়ে দেয় শেষাবধি সাগরদীঘি 
 ৫.
রাজপুরুষের হওয়া লেগে কেমন বদলে গেল আমাদের সাগরদীঘি!অনুপ্রবেশকারী বাঘ শহরে
ঢুকলে সবার আগে জেনে যায় সাগরদীঘি।
কেননা সেই বাঘ তো ভোররাতে জল খেতে আসে
                                               সাগরদিঘীতেই
৬.
শহর ঘুমিয়ে পড়লে সাগরদীঘি আত্মকথা লেখে
সাইবেরিয়ার পাখি আর ডুবে মরা অবিনের মুখ
আত্মকথা থেকে বারবার বেরিয়ে আসতে চাইলে
সাগরদিঘী তোর্সা পীরের ইতিকথার দিকে হাত
                                                         বাড়ায়



সিরিজ কবিতা 

-মিন্টু দাস   

          ১
বারবার সমুদ্রের কাছে ফিরতে চেয়েও
পিছিয়ে যাই রোজ!!
ভালো থেকো নীলাঞ্জনা।
অজানা সমুদ্দুর থেকে
উড়িয়ে এনো লবণাক্ত বালি....!
.                   ২
আমাদের সকাল শুরু হয় কান্না দিয়ে
সন্ধ্যার আগেই ডুবে যায় বিশ্বাস!!

তুমি নিশ্চয় ভালো আছো
সমুদ্রের জলীয় বাতাসে?
ভিজছো কেমন বলো স্নান ঘরের
স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে?

                  ৩
আবার কখনও দেখা হলে
মোহনার গল্প শুনিও!
শিখিয়ে দিও বেঁচে থাকার ট্রিক্স!
আমি ভুলে গেছি কিভাবে হাসতে হয়!
আর বেঁচে থাকা কাকে বলে?

                 ৪
কোনো একদিন দেখা হলে
চোখে চোখে অনেক কথা হবে
হৃদয়ের মোম যদি গলে!

আমার বুকের ভিতর তো
বয়ে যায় নদী আর
হাজার প্রদীপ জ্বলে!
               ৫
নদীর বিষন্ন হাওয়ায় বসে থেকেছি দীর্ঘক্ষণ
সমুদ্রের লোনা বাতাসে মিশিয়ে দিয়েছি কান্না।
তুমি আমাকে জীবনের গল্প শুনিও না
আমি জানি বাস্তবতা কাকে বলে !

                 ৬
উড়ে যাচ্ছে বালি উড়ে যাচ্ছে নুন
জল আছাড় খেয়ে পড়ছে
রুক্ষ পাথরের গায়ে!
আমিও ভুলে গেছি স্মৃতি
ভালো লাগে নাকো আর
বিট নুন লেবু চায়ে!

 শোকচিহ্ন

দেবাশিস সাহা

সাপ রঙের রাস্তায়
পড়ে আছে এলোমেলো খই
কানা আধুলি আর ভাঙাচোরা পায়ের ছাপ

কে যেন এসে
আমাদের পাড়ায়
এঁকে দিয়েছে শোকচিহ্ন

হ্রদে নেমে
ভালোবাসা তছনছ করে দিয়ে
চলে গেলো একটা গোঁয়ার রাত

অজান্তেই একটা রাস্তা
এসে যায় ঘর পর্যন্ত
লালটুকু নিয়ে চলে যায়

চলে যায় চোখ ছাড়িয়ে

মিথ্যেগুলো পড়ে থাকে
সত্যের কঙ্কাল কাঁধে
হেঁটে যায় শ্মশানবন্ধু

শোক গায়ে ঘুমিয়ে পড়ে পাড়া



অসুখ

অসুখের ভিতর 
যাতায়াত করে অন্ধকার 

লালারস রক্ত-আমাশা

শাপ লেগে গেছে হাড়ে

দূরে দূরে সরে যায়
প্রিয় ছাদ 
বোগেনভোলিয়াকে জড়িয়ে জড়িয়ে 
সূর্যস্নান করে শালিখ দম্পতি 
পড়ে থাকে আত্মাহীন খোলস

এই অবসরে
খোলসে খেলা করে প্রিয় ঈশ্বর 

তুমি খোলস সাজিয়ে তুলছো
কান্নার অলংকারে
গোপনে পাচার করে দিচ্ছো অসুখ

অসুখের গভীরে 
নামহীন গোত্রহীন এক সুখ
যাতায়াত করে জন্মের পর জন্ম। 



ভৌগোলিক ভুল 


শোওয়ার ঘরে ঘটে যাওয়া 
ভৌগোলিক ভুল
টেনে বেড়াতে হয় বৃত্ত বরাবর 

পিয়াস জাগলেই
মনে হয় 
কোথাও জল খসছে

কেউ কেউ এই জীবনকে শরবত ভাবে
বোতাম খুলে রাখা রাস্তায় 
কার পায়ের ছাপ

হাসিটুকু মেখে থাকলে
গড়িয়ে গড়িয়ে আসে ভাত

সেলাই এঁকে চলে যায় প্রসব বেদনা। 

 বুদবুদ


রূপবিলাস মণ্ডল


কোন এক সন্ধ্যায় তোমার

হৃদয়ের‌ উষ্ণ  প্রস্রবণ ,

উষ্ণতা আমায় ঢেলে দিয়ে

শীতলতা করেছ বরণ।

জীবনের ধারাপাত জুড়ে

যোগ বিয়োগের এই খেলা ,

বিষন্ন  আকাশ বুকে করে

বিশ্ব পথে হেঁটেছি একেলা।

ক্ষণিকের অতিথির মতো

কিছু পথ ধরেছিলে হাত,

হাত ছেড়ে কোথায় হারালে,

কুসুমিত শুভ্র প্রভাত!

আমার প্রগাঢ় অনুতাপ

তোমায় নামায় মেঘ করে,

বৃষ্টি, সে দূরে সরে রয়

স্বপ্নের ক্রন্দসী পারে।

নিত্য এ আসা যাওয়া খেলা

বুদবুদ ঊর্মিমালায় ,

প্রেম আর অপ্রেম মিলে

জন্মায়, অসীমে মিলায়।



মানবতার ফেরিওয়ালা


শৈশব আর কৈশোর গেছে চুরি

স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে যৌবন,

উদ্ভ্রান্ত এ সময়ের অভিঘাতে

স্বপ্নের এক ফেরিওয়ালা প্রয়োজন।

সে স্বপ্ন  হবে মানবতা প্রতিরূপ

জীবনের তরে সঞ্জীবনীর মতো,

দুচোখে আঁকবে স্বপ্নের  অঞ্জন

দূরীভূত হবে হতাশা-দুরাশা যতো।


দিকে দিকে আজ বিপন্ন মানবতা

আর্ত কান্না বিষিয়েছে প্রতিদিন,

মানবতা হীন জীবন পশুর মতো

ফেরিওয়ালা করো মানবতা উড্ডীন।

গান্ধী ,নেতাজী যে স্বপ্ন দেখেছিলো

সেই স্বপ্নই বয়ে নিয়ে চল তবে,

সবাইকে যদি স্বপ্ন দেখাতে পারো

দেশ জননীর স্বপ্ন সফল হবে।

যে স্বপ্ন খোঁজে জাতপাত হীন বিশ্ব

মানবতা আনো,যেখানেই খুঁজে পাও ,

ঈর্ষা এবং হিংসা মুক্ত পৃথিবী ,

যুদ্ধ চাইনা, যুদ্ধ থামিয়ে দাও।

সাম্যের তরে এক হোক গোটা দুনিয়া

গভীর স্বপ্নে বুঁদ হয়ে থাক মন,

স্বপ্ন দেখুক শ্রমিক  মজুর কৃষক

পৃথিবীটা হোক আনন্দ নিকেতন ।


আসল কথা


আসল কথা বলতে গেলেই

ভরিয়ে দিচ্ছে নকল কথায় ,

সবাই হয়ে মন্ত্র মুগ্ধ

বোকার মতো হাততালি দেয়।

তুলছে না কেউ  আসল কথা

ভুলছে সবাই অভিনয়ে,

এরা ভাবছে ওরা বলুক

সত্য ডোবে অবক্ষয়ে।


কার প্রাপ্তি কে হাতড়ায়

কার অধিকার ধুলায় লুটায় !

নকল লড়াই বাধিয়ে  দিয়ে

নেপোয় শেষে  দ‌ই মেরে দেয়।

তোমায় যারা শোষণ করে

তাদের নিয়ে মাথায় তোল,

নিজের কথা, দেশের স্বার্থ

তোমায় ভোলায়, তুমি ও ভোলো।


এসব প্রশ্ন কে করবে?

বলবে যারা নেশার ঘোরে ,

প্রতিবাদের ঝাণ্ডা ঢেকে

সহজ পথে স‌ওদা করে।

সত্যি কথা, আসল কথা

সবাই মিলে বলতে হবে,

না হলে ওই শোষক শ্রেণীর

মর্জি মতো বাঁচতে হবে।


মেকি কথা মিটিয়ে দিয়ে

তোল সবাই  আওয়াজ তোলো

আসল প্রশ্ন উপেক্ষিত,

আসল কথা সবাই বলো।


পুরনো বাড়ির আত্মকথা

দেবাশিস মুখোপাধ্যায় 
১.
রাত্রির শরীর এতটাই হলুদ 
সিঁড়িভাঙার ক্ষমতা কখন হারিয়ে যায়
গল্পগুলো ভিজে যাওয়ায়
জমছে না 
আনন্দ 

২.
একটা
রঙিন চশমা
জন্মের পরের অধ্যায়ে 
মৃত মানুষের ঠোঁট আঁকছে
সেখানে ফুটে আছে আর্তি প্রেমের 

৩.
ফুলহীন ফুলদানি
কাঁদলে
একটা টেবিলের দীর্ঘশ্বাস
বাড়িকে খায়  খাবার ছাড়াই
ভালবাসা নরম স্পর্শ ছাড়া পাথর 

 নিমাই জানার তিনটি কবিতা


সেফালিক্সিন ঔষধি বৃক্ষ ও তরল পুরুষের ত্রিশূল


হর্মোনাল সিক্রেশন অথবা ডায়াস্টোলিক রাত্রি কাউকে সুখী করেনা 
ডিহাইড্রেটেড আগুন খেতে শিখেছে নিজের লাভারসে ডুবিয়ে কাগচি লেবুর মতো তরল নৌকা গ্রন্থির উপর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশহীন হৃদয়ের পুরুষেরা ত্রিশূলের নৌকা এনে বসিয়ে রাখবে আমাদের সংসার উপত্যকার মাঠে , অ্যালকোহলের কখনো জ্বর কমেনা
সকলেই কেমন অশরীর রঙের ভেজা পরিচ্ছদকে উল্টো মুখে নামিয়ে রাখতে পারে বসনহীন খয়েরি উপত্যকার মাঝে
একটি আগুনের নাম কখনো গোলাপি শহর হতে পারে না
আমি সাদা রঙের উপপাদ্যে ভেজা অন্তর ফলকের বিষন্ন গাণিতিক সূক্ষ্মকোণকে সুমেরু গতিপথে আটকে গেছি বারবার রাতের মধ্য প্রদেশের কোন নারী শুনিয়ে যাবে সেফালেক্সিন রাত অথবা ড্রোটাভেরিন ইমপোটেন্সি আয়ান কথা , রাধা কোন ক্ষেত্রফলের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া জানেন না
আমি সেগুন বাগিচার কাছে মৃত সাপেদের উলঙ্গ দেহ আলগা করে শীতকালের সাংখ্যমান নামিয়ে আনি আমার যৌগিক গণিত খাতায় , রক্ত নিজেকে খেতে পারেনা সরীসৃপের হাঁ মুখ দিয়ে



শব্দ পুরুষ ও ব-দ্বীপের মায়া নারী

তন্ময় মৃত্যু আরো কঠিন হতে পারে , আলোকবর্ষের ঠোঁটে হালকা  ধর্মহীন অঙ্গুরীমাল জলজ খনিজেরা ভেসে থাকবে কচুরি পানার মতো
আমাদের এক রাত্রিকালীন হরপ্পা নারীর ভেতর শব্দপুরুষ জেগে উঠবে পর্বমধ্য সাপের মতো
এখন লিগামেন্টের পাশে আমি আমার বিনীত রক্ত নিয়ে এগিয়ে যাবো ধাবমান নৌকার দিকে , আমি একটি ব-দ্বীপের আগুন খুঁজছি যেখানে মায়ানারীটি জেগে উঠবে পিচ্ছিল অরণ্যের দিকে মুখ করে
দেওয়ালের মতো কোন প্রাচীন পুরুষ নেই যার কোন অসুখের উষ্ণতার একক থাকেনা বগলের তলায় , আমার উল্টানো রেইনকোটের মুখ ও হাত দিয়ে টপটপ রক্তের বমি উপুড় হয়ে পড়ছে
আমি তার শারীরবৃত্তীয় দিনের সমাকলন করছি বজ্রপাতের নিচে দাঁড়িয়ে,  রেনকোট আসলে একটি মানুষের বহিঃপ্রকাশ মাত্র
মৃত্যু শরীরের থার্ড ডিগ্রি আগুনের জ্বর গায়ে আমি সন্ন্যাসী মাঠে ধীরে ধীরে উলঙ্গ হওয়ার মন্ত্র শিখে ফেলবো অক্ষরের জরায়ু নিয়ে কখনোই দ্বৈত ক্ষেত্রফল অচেতন নয় , কর্মযোগী মানুষেরা নির্ভার ফসল তুলে বাড়ি ফেরেন চৌকাঠ বারান্দা দিয়ে


বিদূষক ও পানকৌড়ির অলৌকিক স্তব


পানকৌড়ির মৃত নাভির স্তবে বসে আছেন ক্যাসিওপিয়া মাখানো ফ্যালোপিয়ান মৃত ডিম্বাণুর দল
ভয়ার্ত বালকের মতো ওই চৌকোনা ঘরের দিকে আর যেতে পারছিনা মৃত্যু মুখ নিয়ে
সকলের পিঠে কেমন রুপোলি অথচ সালংকারা চতুর্ভুজ দেহ নিয়ে নিরাকার হেসে যাচ্ছেন আগুন স্ফুলিঙ্গের ভায়াগ্রা বরফ
চমৎকার পোশাকটি আপেল বর্ণের মতো টোল খাওয়া অস্টিও অস্থিসন্ধিতে রজনীগন্ধার মালা ঝুলছে বিষন্ন পুরোহিতের হাতে চেয়ে দেখো স্থানু ঘোড়া, এখানে সব বিদুষক পুরুষেরা অন্তিম স্বরবর্ণ ঢুকিয়ে রাখছে নিজের ক্ল্যারিওনেট শ্বাস বায়ুর ভেতর
আমি মৃত্যুর একেবারেই শূণ্য স্থানাঙ্কের কাছে বসবাস করেছি হলুদ পাজামা গায়ে দিয়ে , এখন অলৌকিক মাঠের জাম পুরুষেরা নিরাকার ত্রৈরাশিকে লীন হয়ে আছে লাবণ্য লতা দিয়ে
ঘরের দিকে চলো চিতা কাঠ ,ব্রাহ্মণের উপবীত ও সাইটোপ্লাজম ঠোঁটের হত্যা কালে বৃত্তাকার কাঠে গজিয়ে উঠছে সমাঙ্গ দেহী ঘোলাজল , আমি হরপ্পা নারীটির পেটে অসংখ্য জিওল মাছের নরম শুক্রাণু আটকে রাখি লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে
জনহীন সাদা পোশাক পরে কংক্রিটের দাঁতে রাত্রিকে চিবিয়ে নরম জবা ফুলের জন্ম দেয় সাবিত্রী দেবী , অথচ কামনা তীরেও বিদ্ধ ঈশ্বরবাদ
সমুদ্রগড় সৃষ্টি করেন আগুনের ৩৬টি জনন ছিদ্র দিয়ে


চিরঞ্জীব হাললারের গুচ্ছ কবিতা 

তারাপদ



তারাপদ কে অনেকদিন দেখিনি

তার জবুথবু শালটা আর কতকাল আমার অনিরুপিত জিম্মেদার
কোন অতিরিক্ত সংযম ছাড়াই মেয়ে পশুটা তার নৌকা পাহারা দিতো
বর্গবীমা মন্দিরের সুদর্শনা কেন তাকে বাপজান ডাকে
 পাঁচটা ছাপান্নো লোকালের কারশেড ড্রাইভার বলেছিল সতীনাথ এর ঢোঁড়াই নাকি তারাপদর দোস্ত

জেগে জেগে যেসব কথা বলতো অঘ্রানের অন্ধকার শর্বরীর গা চুঁইয়ে সেই সব অতিস্বপ্নরা
এখন সাবস্ক্রাইবার খুঁজতে খুঁজতে মহানগরীর মাদক আলোয় নিরুদ্দেশ তুমি তার কতটুকু জানো
আহা তারাপদ  তুমি এক
নিয়তি নির্ধারিত অভুক্ত টায়রা পুরুষ ।

২৬-১২-২১

গল্প


ক'দিন থেকে লোকটা জ্বালিয়ে মারছে
তার এক কুৎসিত দর্শন বান্ধবী দরকার

হাড়ে হাড়ে শয়তানী তকমাটা এই সুযোগে
কোন এক চতুর আমার চরিত্রে সেঁটে দিয়ে
বান্ধবী ভ্যালির দালাল হয়ে উঠবে এই ভেবে চেপে যাই
আমার দিন এক  নশ্বর প্রজাপতির উপঢৌকন

প্লেটোর না লেখা নোটবুকের অ্যনাটমির 
আকাশটা গজদন্তী হরিনের মত
 টের পাই কে যেনো নাভির ধূসর কোষে আত্মগোপন করে আছে

এক একটি উপসংহার যেনো ননডায়নামিক সময় বমি করা ঘড়ির কাঁটা
 লোকটা আজ ও এসেছিল 
তার বউ তাকে খেতে দেয়না তবু তার সুখি মস্তিষ্ক
খুঁজে চলেছে ফিরিওয়ালাকে
যার কাছে সে এক খুবসুরত দিগন্তের গল্প শুনতে চেয়েছিলো

২৬-ডিসেম্বর-২১

ভ্রম


এক মতিভ্রম বিদূষক
মাঝে মাঝে গুলিয়ে দেয় সব

'প' য়ের আগে 'ভ' ছিল 
না 'ভ' কে বিশেষ প্রাধান্য দিতেন এটা 
বিবেচনাপ্রসুত বিদ্যাসাগরীয় ত্রুটি

যাত্রা পথে কোন মাঝিহীন নৌকোর দেখা পেলে
বলতে হবে তার মাঝি কখন আনবাড়ি থেকে ফিরবে
সে বিধাবা বিবাহের পক্ষে না সত্যবতীউত্তর সমস্ত
পরিচ্ছদের কোন এক মহান চরিত্র

ভ্রমজনিত স্বাস্থ্যকর  মেঘেরা তোমাকে অসময়ে ভিজিয়ে দিলে বাড়ি গিয়ে কি উত্তর দেবে
এটা বলার সময় বিদূষক ও তোতলাতে পারে

আপনি ভেবে রাখুন তার সম্ভাব্য ফ্যালাসি গুলো

২৪-১২-১২

তম


কাঁঠাল আর সজনে ডাঁটার মধ্যে কে ভীষন প্রতিভাবান

হালিসিনা হান্নু বা সতেকাই
দুজনেই মৃত্তিকার সম্পর্কে কতটা হিংসুটে

একজন বিজ্ঞানে ছাত্র আর একজন ফ্যালাসিবিদ

তারা উভয়ে  শারীরিক পঙ্গুত্বকে বাজী ধরে
চরম সুন্দরী এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সামনে হাঁটু মুড়ে গোলাপ চাষের উপযোগীতা বুঝে নিতে নিতে হারিয়ে ফেলেছিলো অন্তর্দহন এর নোটবুক

আপনি হাঁচি দিতে দিতে গ্ৰন্থনা করছেন এক মৃত্যুর ধারাবিবরণী

আর এক জন হাঁচি দিতে দিতে ঢুকে পড়ছেন শুয়ো পোকাদের মোক্তারনামায়

আসলে সবটাই বীজ
এখন দেখার কে কার মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে
সক্রেটাসের উত্তরীয় হয়ে উঠবেন

আসুন এই ইন্টারভালে
শ্বেতপাথরের থালায় কুমারী গাভীর দুগ্ধে
আচমন সেরে ফেলি

২২-১২-২১

ইন্দ্রনারায়ন এক


এইট্টি নাইন ও নাইন্টির মধ্যে
তুমি 

আনআইডেন্টিফাইড অসংখ্য ফুটকি
কেন এত কুহক ভঙ্গিমায়

ত্রাণ ও ত্রাসের দোলাচলে
দুলে ওঠে মৃত মায়া গাছ


ইন্দ্রনারায়ন দুই



আয়তন আয়ত্ত করতে এসে তুমি এক অনড় কুহক

 তোমার বজ্র থেকে উড়ে যাওয়া বাজ
ইয়োলো সাগর থেকে ঘনায়মান শূন্য স্পশে
কথা ছিল মুর সভ্যতার কোন অস্পষ্ট পাণ্ডুলিপি থেকে তুলে আনবে আমাদের জাগতিক পুতুল

তুমি এক কুহক
কুহক অতি সহজে ইন্দ্রনারায়ন

যদি আমরা কথা বলি
আমাদের ভাষা ও পাটিগনিতের মধ্যে ঢুকে পড়ছে
ট্রয়
যদি ভূমির কথা বলি নৈঃশব্দের পাতাগুলো কেঁপে উঠে
আমাদের একমাত্র  স্থিতিস্থাপকতা
জাগতিক হ্রেষা থেকে তুলে আনবে একশ আটটা নীল

এস  ইন্দ্রনারায়ন 
মিলিত হয়ে আমরা হেঁটে যাই পরস্পরের তীর
রক্তাক্ত চাঁদের সেই তীব্র কুহকে

২১-১২-২১


হৃদয় থেকে বেরিয়ে আস্ত্রীর হৃদয়ে তুমি যেটা


ফেরা



কলহের অদূরদর্শী সঙ্গ নির্মাণের জন্য ধরা যাক আকাশের বয়স এক্স
বচনকে যদি সংহিতা ভবনের দোসর ভাবা যায়
তাহলে তাকে ওয়াই অ্যকসিস বরাবর ধার্য রাখুন
এখন খেলাঘরের  ছবি আঁকা হবে
আকাশের অলিক ক্রন্দন থেকে তাথৈ জলকে
 বসিয়ে দিন দরজা হিসাবে

অসীম আসবাব থেকে যে মিয়াও বেরিয়ে আসবে
তার গুগলি ডেলিভারী হাস্নুহেনার
আয়কর ভাবলে দেখবেন
আপনি অনির্ণেয় পৃথিবীর 
একমাএ বালক

এমন একটি উল্লাসকে বোতলে ভরে মাতালটা ফিরে যাচ্ছে তার নিজস্ব আবাসভূমিতে 

১৬-১২-২১

কলহ


ঘন হয়ে জেগে থাকে অসম্পর্ক 
তাকেও শুভেচ্ছা পাঠাও
তার ও কিছু বন্ধু আছে
বছরকাল জলভরা রূপালী সন্দেশ
ভূপালি শোনায় কানেকানে
ভরা জলে কই মৎস্য পাঠায় আতিথ্য রগড়

মরছে পড়া হাতের কাতান হেসে ওঠে
এমন সম্পর্ক তুমি কতদামে করেছো খরিদ
বলো রূপালী বান্ধব বলো বলো
সম্পর্কের নিচে নদী বহমান কাঙাল হৃদি থেকে পূর্ণবীর্যে চেতনাতীত গুয়েতেমালা জেগে থাকে
অনড় স্থাপত্য
তার আজ আধিবাস
এসো পিরীতি হতধরাধরি অসম্পর্কের সুয়োরানি

এসো প্রেম কলহকথনে

১৪-১২-২১

চাঁদ নিয়ে দু'কলম


শ্যাওড়ার গাছে দোলে দুদিনের বাসিফুল
রজনীগন্ধা তাকে ভেবেছিলো আসিবুল

আকাশের ডালে বাঁসা চাঁদ নামে পাখিটা
গ্রহণেতে রেগে ওঠে ও বাড়ির কাকিটা

দিন ছিল ঘন কালো  আকাশের আকাশে
আঁধারের খোলা চুলে পেত্নীরা  কালহাসে

অদ্য সে আকাশে ভাসে চাঁদ  পাখিটা
কবিতার মিল দিয়ে লিখো তুমি বাকিটা

১৩-১২-২১

কি

কে ধার দিলো অনন্ত মুদ্রা
নাম জানিনা

সে এক ধড়হীন সমুদ্র

আমিত্ব ছাড়াই আকাশের পাঠশালায়
 নো এন্ট্রি' বোর্ড দেখে বায়না ধরেছে
তার উত্তরাধিকারের নাম জানতে

বলাবাহুল্য আমি নিরুত্তর

১৩-১২-২১

যাত্রা


একটা মিথ্যাকে গলায় জড়িয়ে সন্ধ্যা যাত্রা করল মহাশ্মশানে
সঙ্গে রয়েছে কিছু দুঃস্বপ্ন আর মহাবিশ্বস্ত কালোঘোড়া
তারা যখন পরস্পরের সাথে কথা বলে
দেয়াল ঘড়িটা কে বিচারক পাগল বলে সাব্যস্ত করেন

মৃত্যুর জন্য সময়কে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে 
এটা কনফার্ম আমাদের সমস্ত বেল গাছে ফুল আসবে
দুর্গাকে বলবো যা তুই কতটা 
বিধবার ভূমিকায় অভিনয় করতে পারিস 
আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে নে।

এফিটাফ লেখার জন্য প্রকৃত কালি ও কলম কেনার দোকানটাকে   খুঁজেতে গিয়ে দেখতে পাই কবিতার নায়ক একমনে ক্যাশবাক্স সামলাচ্ছে

১২-১২-২১

মিথ্যুক


ঠিকানা না লেখা চিঠির 
সন্দেহ আদ্র ফ্যালাসিনামা

সব চৌরাস্তা পরে নিয়েছে নবীন পোশাক
চিনতে পারো ডাকপিয়ন
মেফেয়ার রোডের ঝুমঝুমিওয়ালা আমার নাম জানলো কি করে
নদী ও আজকাল চিরঞ্জীব চিরঞ্জীব বলে ঘন ঘন হাই তোলে
হতে পারে সক্রেটিসের বান্ধবীর নাম হেমলক

আরো কিছু ঘাস থেকে জন্ম নেবেন নিহত চেতনার
পিতামহী
এসো দৈবী সংকেত 
অনুমানসিদ্দ ফ্যলাসিগহনা
কোথায় ঝোলালে একজনকেও মিথ্যুক মনে হবেনা 


আমি


ভবতারিণী  সন্ধ্যা নামল

আকাশের পিরান ভেদ করে নেমে আসা আঁধার
মিশে যাচ্ছে পলক থেকে খসে পড়ছে বিন্দু বিন্দু ক্লেশ

দেহের খোপ থেকে নেমে আসো আমি
রাতের মায়াবী চুলে জড়িয়ে থাকা জোনাকি
আঁধার কাবার করার সব ঋণ
কোন এক প্রহরে কাঠুরের অনাবিল সংগ্রহে মোরগের মত থেকে উঠবে

সেই সংগ্রহের নাম যদি আমি হই 
ভবতারিণী চমকে উঠনা
১০-১২-২১

ঘুম

যদিও সংশোধনাগার ভরে আছে ঘুষলোভী অপরা 
চাতকে

ঋষিদের অস্থি দিয়ে গড়া ধাতব বারুদ একজনও জেগে নেই

রাতের কোটরে  অস্ফুটে আর্তনাদ ভরা প্রহেলিকা
সেইসব অশরীরী কলরব স্বাধীনতা দিবসে 
ক্ষুধার্ত ব্যন্ড বাদকের পোশাকে ঝলমল করে উঠবে

তিরঙ্গা তোমাকে সেলাম


৯-১২-২১

ঈর্ষা


অভিমানে ফুলে ওঠা নদী
দেখেছো কি ধনাত্মক স্তব
বলে দিও বৃক্ষের ডালে
ফল রূপে দোলে অসম্ভব

এই এক সুললিত ভ্রম
নদী ও হাজির উপহারে
ঝুমকো দুলের ভাটি গানে
তোমাকে ভেজাবে বারে বারে।

অভিমানী মুখপুড়ী তার
দুই পাড় ধারা অলংকৃত
তাকে টানে চোরা ঘূর্ণি ঘুম
চুপি চুপি নদী চিঠি দিতো

তাকে শোনাও মীমাংসা কথা
নদী রাজি হতে উপহার
কোন পাত্রে তাহাকে ধারণ
কে বইবে এ মোড়ক ভার

দূরে জাগে বান্ধবী স্রোত
হিংসুটে জেগে থাকে টান
অভিমানী ফুলে ওঠা নদী
ক্ষণে ক্ষণে প্রেমিক হারান

৩-১২-২১

Tuesday, August 3, 2021

 অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা



ছায়াছবি

 

জাক দিয়ে গেছেন ঈশ্বর এখানে।

সোদা পাটের গন্ধ টের পাচ্ছি ডুব দিতেই।

ঘোলা জলে এখনো সেই ভেসে থাকা বেগুনির পরেও

তোমাকে আমার পা ছুয়ে গেল

 

চুল খুলতে খুলতে উঠে আসতেই বুঝলাম

এবার কলার ভেলায় ভেসে থাকার দিন এসে গেছে।

 

টানাটানির সংসারে আবার আগুন জ্বলবে আমাদের বাপ মায়ের মত।

 

বৃদ্ধ চিত্রকর


কথা বন্ধ হয়ে গেলে আর নম্বর ক্যারি করা যায় না।

দুটো বৃষ্টিদিনের কথা শুনেছি

তার কিছুই নেমে এলো না

আমাদের আশেপাশে আজ

 

সবটাই বুজে যাওয়া চোখের এইমাত্র

 

 

বন্ধ মানুষের শরীরে দেখতে পাওয়া অ্যাব্রড

 

আমার ছুটিরদিন

তোমাদেরও

ঝুলে থাকা তাকানোর নোটিশ

 

সাইকেলের তালাও আর খুলতে পারছে না কেউ

পারছে না পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলতে

 

কথার ফাঁকে ফাঁকে দিনগুলোও

মুছে যাচ্ছে নম্বরের সাথে

 

বঙ্গবন্ধু

 

মানুষ একটা চরিত্র

মানুষ যখন এতটাই ঈশ্বর

আমি তাকিয়ে সেই মানচিত্রের দিকে যার প্রতিফলিত

আকাশের নিচে আঘাতে আঘাতে

জর্জরিত আরেকটা মেঘ আর মেঘের

নির্দেশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে

আমাদের বাংলাভাষা

 

মানুষ একটা সময়ের ইস্তাহার

বুকের দেওয়ালে দেওয়ালে লিখিতভাবে

সেই রক্তের দাগ

আমাদের কাঙ্ক্ষিত মিছিলের উপর চড়াও হওয়া ব্যভিচারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ

 

মানুষ একটা দেশ

দেশের মাটিতেই ঘাতকের নির্মমতা

 

আপনি আমাদের বন্ধু

আপনি আমাদের প্রিয়

আপনি আমাদের গঙ্গা যমুনায়

ভেসে থাকা রং এর জন্য

একটা চিঠি

আরেকটা উড়তে থাকা পতাকার

দিকবিদিক

 

স্বাধীনতা এঁকে রাখা আমার শৈশব

আমার মা বাবার প্রিয় মাতৃভূমি

 

সব ঝুট হ্যায়

হত্যার এই দৃশ্যে মুখিয়ে আছি

কেউ কেউ সরিয়ে রাখছে প্রার্থনা

ঘুমিয়ে থাকা গাছেদের জন্য

এক টুকরো সাহস উড়ে এলো

একটা গ্রাম তখন প্রসবের আশায় কিছুটা দূরের শোনা

পতাকা র গোত্র বদলে দিলেন মা

তার হেঁটে আসা আলতার নিচে

সুরের দুইদিকে ভাঁজ খুলছে ভাগ্যের ছোঁয়া

গলতে গলতে আমাদের চেনা জনপদ

সকলেই হারিয়ে গেছে

সবাই স্বাধীনতা পড়ে নিলো দিবস হারানোর

 

দু এক লাইন


ভেতর থেকে অরণ্য আসছে

আর তুমি ভেসে যাচ্ছো কোন ইতি না রেখে

 

দেওয়ালের ফাঁকায় কোন বাড়তি নেই

কোন আঁচড়ও নেই খুবলে নেবার

 

তবু ওরা পার্বণ সেরে তাকিয়ে থাকে

স্বীকার করে নেয় ঈশ্বরের জমায়েত

 

চূঁড়া থেকে নেমে আসছে মিছিল আর দীর্ঘ নিঃশ্বাসের

জবানবন্দি

 

স্বাস্থ্যবীমায় নতুন সংযোজন

কেউ চাইলেই ছায়া কিনে নিতে পারবে

 

কেউ চাইলে মরেও যেতে পারবে ঠাকুরের ইচ্ছে মত


নিজের জন্য


ধিক্কারের আরো কিছু নতুন শব্দ চাই

 

থুতু যতটা গিলেছি এতদিন উগড়ে দিই সারা শরীরে যখন

কোথাও ঈশ্বরের বাচ্চারা

মানুষ লুকোচ্ছে নতুন মুন্সিয়ানায়

 

সকাল হলেই আবার কত কত মানুষ

ঘামে ভিজচ্ছে যারা অজানা চুরির গন্ধে

 

আকাশ পুড়ছে

মাটির কিছুটা ওপরে তখন

 

নীচে সেইসব লিখিত কর্মকাণ্ড

 

তথ্যানুযায়ী ক্লাসরুম খুলে যাচ্ছে প্রসবের বেওয়ারিশ ঠিকানায়

মাতৃত্বকালীন ছুটি চেয়ে নিতে।

 

একটা সাদা কাগজও নতুন করে কোথাও পৌঁছে দিতে


পরমহংস


এখনো তাকে তো দেখলাম না। না নদীর তাকিয়াতেও না।

পরিকল্পনা মাফিক সবটাই ওড়ানো। আর ওই রংগুলো।

 

মেঘেরা তো এলো না আর এই অধঃপতন সামলাতে। একটা দুটো পায়ের শব্দও...

 

এই বুননের ছায়ায় কিভাবে যেন এসেই যায় কেউ নৌকো ডোবাতে।

আর বাতাসের বাঁক ক্রমশ মায়েদের চেনা আড়তের দরজায়।

ভেতরে সংক্রামিত তুলিদের বনেদিপনা।

 

একটু তাকিয়ে থাকলে কোন দোষের নয়।

মুখটা ঢেকে দিলেও কিছু একটা রপ্ত হতে থাকে উচ্ছন্ন সমেত।

 

 

 

অসঙ্গতি

 

নিজের সাক্ষাৎকার নিজেই নিতে দেখি রাত হয়ে এলে রাস্তায় হাজার হাজার কালো গাড়ি লাইট ডিম করে হেঁটে যাচ্ছে আর খয়েরি ছোপওয়ালা একটা গাড়িগুলোকে নখের আঁচড় দিতে দিতে করে তুলছে আরো হাজার হাজার খয়েরি ছোপওয়ালা বেড়াল। অসাধারণ এই দৃশ্য দেখছি সংগোপনের এক অনন্ত দিয়ে। ছিটকে বেরিয়ে আসা পোড়া কপাল দিয়ে।

 

পাশ ফিরতেই গ্রন্থ কেমন যেন তাবু হয়ে উঠলো। কেউ কেউ তাদের নরম স্তন ভেবে ঠান্ডা জলে ডুব দিলো আলাদা কোন স্বাদের জন্য। নেড়েচেড়ে দেখার জন্য। আমি সেই তাবুর ভেতর কাউকে কিছু না বলেই ঢুকে পড়তেই আকাশে বৃষ্টির পা থেকে শুরু হচ্ছে এবং

 

এই বং যদি নখের বংশ পরিচয় দিতে পারতো তাহলে ঈশ্বর লিখেছিলেন কালো বেড়ালগুলোর মালিকানা অর্জন এর যে অধিকার জন্মাবে তাকে কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে আর বেশি সময় লাগবে না।

 

আপাতত পশ্চিমপ্রান্তে এই দোষ এর ভিজে যাওয়া ডিভাইডার। যাকে টপকাতে পারছি না কিছুতেই। কালো খয়েরি ছোপওয়ালা গাড়িগুলি হেঁটেই যাচ্ছে।

 

আর বেড়ালটা হাসছে আমার উৎসর্গের মত। জিভ দিয়ে চেটে দিচ্ছে মাথা কিছু একটা বেরোবে বলে....


 গুচ্ছ কবিতা

গৌতম গুহ রায়


মেঘ

শেষ বিন্দু থেকে ঝুলে থাকে বিবশ চুম্বন,
ডোরাকাটা, অনন্তের পালক উড়ে আসে, 
আঙুলে আঙুলে
জমাট পাথরের শস্যহীন বুকের ধ্বনি ভেসে আসে, 
কোন শঙ্খহাত ডুবে থাকে জলে
শ্বাস নেয় মেঘ, 
অন্তহীন অনন্তের বাঁশি 

পাহাড়ের মাথায় যে মেঘ ভেসে বেরায়,
তার প্রতিটি জলকণায় আলো চিকচিক 
কুমারী রোদ্দুরের হাসি লেগে থাকে ।
কুয়াশার জলছুঁয়ে, 
আলোদেহ অনুবাদে  
ভিজে যাই অন্যমনস্ক ভোরে

টিলার উপর সে, 
তার করোটি শূন্য  দেহ থেকে
টানতে থাকে এক অদ্ভূত পালক, 
নীলাভ লাল 
বা হাতের যাদুমুদ্রায় লালা লাল ঘুর্ণি ওঠে জলে ।
 
একটা একটা করে আমাদের দেহগত কাঁটাগুলো খসে পড়ে ।
আমরা সংগ্রহ করি সেই সব ঘনঘোর দেহ ভষ্ম,
                                        হাল্কা, ফুরফুরে ।





এখানে তিস্তার বাতাসে শুয়ে থাকে একাকী মাঝির চাঁদ
এখানে ছায়াহীন কাশবন, 
লুপ্ত বাঘের গন্ধ, 
মাছেদের আঁশ চিহ্নিত জরা
এখানে উজান নাই, ভেসে যায় ভেজা গন্ধরাজের নোনা স্তন
ভাটির দিকে  গড়িয়ে যায় মেঘলা সাম্পান, 
                                       হাহাকার জল, 
অখন্ড পোড়ামাটি জুড়ে জলের হস্তাক্ষর থেকে যায়


একা মেয়েটি তার বিস্মৃত তারাদের কাছে রেখে দিলো
ভেঙ্গে পড়া ঢেউয়ের জলহীন ফেনা, যেহেতু 
নোনা জলের সঙ্গে তৃষ্ণার চিরকালীন আড়ি, 
তাই সন্ধ্যার এলে  
সিল মাছের চর্বিতে জ্বলে ওঠা 
একাকী প্রদীপ ভেসে যায় 
                          মোহনার দিকে

অন্তর্ভেদী ধ্বনিতে গেঁথে নিলে প্রমত্ত অন্ধকার
প্রভু, 
হোমাগ্নিতে আঙুল ছুঁয়ে তপ্তভস্ম মাখি 
শোকস্তব্ধ ফুলেদের সাথে খেলি হোলী
দুহাতে তুলে নিলে পদব্রজের সমিধ, 
                             পরি ও মহাব্যোম
মৃত্তিকা ও নদীর গায়ে রামধনু উল্লাস, 
                               উল্কিলাগা রোদ ।




শরীরটা ছিলো কিছুটা ছায়া আর কিছুটা মায়া,
আশ্চর্য অশ্ব এই ! 
গতিতে হেরেছিলো যুদ্ধবাজ পাখি, আজ 
সন্দেহ চোখ দেখে নেয় চতুর্দিক, 
জুয়ারির খাতায় লেখা হয়
হুল্লোড়বাজ জকির হিংস্র আচড়, 
রূপালি মুদ্রায় তুক্তাক

শূন্যতার রঙ মেখে গাও তুমি  বিষন্ন ভাঙ্গনের গান ।

তাঁকে বৃষস্কন্ধ বলে জানি, 
যতটা ভাবছো  সে তার থেকে দীন । 
চাপিয়ে দিয়েছো বোঝা,  যাত্রা সঙ্গী হলে, 
আসলে সে তো পতনের মুঠো মুঠো মাটি
যতটা ভার বইতে পারে 
তার চেয়ে বেশী দীর্ঘ তার ছায়া দেখি

সেই দুধসাদা বাতাসে বিঁধেছিলো চড়ুইয়ের ক্লান্তিহীন ডাক 
ঠোটের নীচে রোদ্দুরের হ্যাংলা আঁচর, 
কাঁধে মিথ্যার পতঙ্গ, 
তাদের অলীক খোলস
সন্ধ্যা এলে পাখির ডানায় নামে প্রলাপের ছায়া 
চিরচেনা সন্ধ্যা-শাঁখ বেজে ওঠে নিরন্ন করতলে




১০
‘করতলে বজ্র ছিলো একদিন’, 
এই মিথ্যের গানে সন্ধ্যা নামে
ভিক্ষান্ন মুঠো থেকে আগুনে ঢেলে দিলে, 
হাঁড়ি ভর্তি পোড়া মুখ উড়ে যায়  
                          স্বেচ্ছাচারী অপরাহ্নের তাপে । 
পৃথীবির শ্রেষ্ঠ পিদিম সেদিন বজ্রের ভঙ্গিতে
মেঘবর্ণ করতল থেকে ভেসে গেছে তিস্তার ক্ষুব্ধ জলস্রোতে

১১
নীল তিমির পাশে তোমারই ধূসর ছায়া
তবুও জীবনের জন্য এতো মেঘ খোঁজো কেনো?
তোমার যাত্রা পথে দেখো 
একদিকে কালো দাগের ভারী চিহ্ন, 
                             অন্যদিকে সমুদ্রের ফেণীল কাঁধ
নখের ডগায় শিকারির ভাঙ্গা তীরের ফলায় মৃত পশুর লোম
১২
 সে বিশ্বাস করতো, 
                             অন্ধকেরের পর  আলো আসে,  
তিমির দাতের কাছে রেখে দিলে আজন্ম অর্জিত ঘাম 
ফাগুন এলে সেই বৃদ্ধ পোস্টম্যান আবার আসবে, 
যে জানে বাদামী খাম খুলে কোন রাতে গাছেরা নদীর কাছে আসে
কোন রাতে নেকড়ে খুবলে নেয়  স্বর্ণ নৌকার ধান

 

সব্যসাচী হাজরার গুচ্ছ কবিতা



মোমেনশাহী 

১।

একটা মোমলাইন ঢালা হোলো

মোমকাশের ফিরে দ্যাখা মোমেনশাহী আমাদের ঘরবাড়ি

এই আকুলআলোর কোলসকল ও ব্যস্তলোকাল ভালো

গানবাঁধানোর সেই গানে

যদুমধুর যতদূর ভালো

ভালোআপদের আমরা মোম ঢেলেছি যখন তখন

বাচ্চা বেরোয়

বাচ্চা তবুও বেরোয়

কান্না বেরোয়    বেপরোয়া। 

২।

দেশ ভাঙতে লাগে খেলা ভাঙতে লাগে

বেণুদি'র এপাশওপাশ লাগে   আমরা একপাশে

ভারতীয় সাবান দিয়ে টনক দিয়ে টংটং শব্দ শিখেছি দ্যাখো

পেছনে ভাসছে প্রথম প্লেনের হাওয়া

ইথারে চলো      এক অথর শব্দের কাছে আমাদের জন্তুযান

দাঁতের পিঠে দিলো আলোর ইশারা

লুকিয়ে দেখেছি

  আলোর ব্যক্তিগত পাখি

                        মুক্তিগত ওড়া শিখে নিয়েছিলো…

৩।

পৃথিবীর সমস্ত খণ্ডিত ও পূর্ণ জানোয়ারের প্রতি প্রণাম জানাই

বর্গমূলের মানুষ মিক্ষিত খিঁও

আমাকে শেখায় ক্ষমার গাছ হতে

ওই যে 'শ' তার বাঁট ধ'রে চুষতে গেলে

অতল হারামি হতে হয়

গাছের ক্ষমা হতে পৃথিবীর এক কোণে যাও

মহাকাশ থেকে পেড়ে আনা ছেদ ও যতি

আমাদের ধন্য ধন্য ফাঁকটুকু দিও

আমরা জানোয়ার হবো....

৪।

একটা দুর্ধর্ষ মাইলে যাবো মালখানেক যাবোইগো 

এলোদাদা মেলোদিদির এই বসন্তে

মোমলাইন ঢালা হোলো

গানের জন্য দিও গণপাখির তন্দ্রাহত তারা

সেতারা দুইতে দুইতে একবালতি হ'লে

পৌঁছে যাও নাবালিকার বালকঘন তারায়

লিঙ্গত্বকে যত হাসি আজ মহাজন

তাদের তারাপথ

পিছলে গ্যালো মহা গ্যালোপিং

পাখিও গ্যালো

লিখে রাখো আমাদের একটাই গ্যালারি

মোমেনশাহী মোমেনশাহী। 




পৃথিবীস্কোপ 


বৃক্ষঢঙে পৃথিবীস্কোপে হাহা হিললহিলে হেমন্তশব্দের কোণে

ম্রিয়জল মৃৎমুখে কাঁচা পরমায়ু। 

এসো জিন্দাবাদ ছিঁড়ে হেমন্ত শব্দের কোণে বাড়ি বানাই

যেখানে কোমর পর্যন্ত শিতল ও উষ্ণ খোলামেলা, 

যেখানে তিনপুরে চারপুরে হনন্ত অনন্ত শুদ্ধ মনের বোলতা কে?

রেটিনায় যুদ্ধ মানুষের উচ্চ আলোর খাঁ খাঁ

এই পর্যন্ত দোলন থামলে বোলো

ভালোবাসার পকেটে বানানো বাড়ি ,আদরের টেবিল,

শোনো ম্যাপের গোড়ায় জল দিলে আরেকটা দেশ পাবে

পৃথিবীস্কোপ ছাড়িয়ে যাও যদি

দেখতে পাবে পাকা পরমায়ু ও আনন্দগাছ

আরেকটু গোড়ায় গেলে একটাই মানুষ পাবে

যার ব্রহ্মনামে লেগে আছে আদিম ব্রণ ও লিকলিকে হেমন্ত-শব্দের ভোর…



চিরঞ্জীব হালদারের গুচ্ছ  কবিতা

বিদা


বিদ্যালয়ের ছায়া ছোট হয়ে এলে ঘর্মাক্ত পুরুষের
পোঁটলায় স্বরবর্ণ ডেকে ওঠে।

আদিম স্বপ্নের কালপুরুষ
অসংখ্য সময়রেণু জড়ো করে মেপে নিচ্ছেন হাটখোলার কিশোরী মেয়েটা কেন
মূর্চ্ছার মধ্য হ্যমলীনের ধারাবিবরণী পটু।

আজকাল অনেকে কোকিল মাতার মত।
আমরা ভুলে গেছি বাইল্যশিক্ষার ভেতর
তালপানসী ও বীজের অর্ন্তকথন।

পরলোকগত ভাসুরের কথা মনে করে
তালগাছ দেখলেই বড়দি ঘোমটায় মুখ ঢেকে
ফোঁপাতে থাকে।

দেখুন পাঠক, দেখুন 
বিদ্যালয় কেমন দাদির অবৈতনিক সিন্দুকে কোন তালাচাবি ছাড়াই অনন্ত বন্দীত্বকে 
আলবিদা জানাতে ভুলে গেছে।


৩১-৭-২১



শূন্য


মুঠো খুলতেই যে উড়ে গেলো তার নাম শূন্য।

দিন পঞ্জিকার দিক থেকে এক শূন্য উড়াল
দিলে হেসে ওঠে প্রেক্ষাগৃহ।

নদীটার নাম ভব।
কোন জল নেই।
সব মাছেরা প্রনয়ের সময় শূন্যর কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই যে ঘুরনপাখা
অবয়বহীন হাওয়ার অন্য নাম ক্ষেত্রপালিকা।
যে আয়রনী যুদ্ধের মধ্য এই বাঁচন
তার করোটি ঠাসা শূন্যের পরাগ।
মিলনের আগে পালিকা দেখে নিচ্ছেন
পরিধি আর দেহবল্লভের মধ্য কোন
বাসরবকুল ডেকে ওঠে কিনা।


৩১-৭-২১

সারস 


এক বেহিসাবি সারস তার ক্ষুদ্র বন্ধুত্বের গোলাপগুলো ডানায় জমিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

গাঢ়ো ঘুমে স্বপ্ন দেখে কোনও এক নৃপতির অগভীর ডাক ও আমিষ বুনন।

কোথাও  আত্মহত্যার ঢোল বাজে।
কোথাও ডানায় জমে ওঠা মেয়ের চাপা কান্না গুলো বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে।

সারস জন্মের থেকে সারস তৃষ্ণা খুটে নিলে
 দিগন্ত রচিত হয়।

৩০-৭-২১

নিষিদ্ধতান্ত্রিক


কে ভেজালো।
কে শুকালো
ঈশ্বরী না এলিয়েন।
তার খেলনার জৈব পরিস্ংখ্যান আজ ও জানা যায়নি।
তেমন জানা যায়নি কেন মুখেভাত আর বিবাহ
একইদিনে।
কেন ভরা অমাবস্যায় কোন কোন পুরুষ
এলিয়েন ভাষী।

কোন কোন ঈশ্বরী কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই
বদ্ধপাগলী।
সর্বসমক্ষ্য তার জন্মসাল জিজ্ঞেস করলে
রানিপ্রজাপতি নোনা বর্ষা ডাকলে দোষ দিওনা বাপু।

তার নিবিষ্ট প্রেমিক সেই কবে থেকে নিরুদ্দেশ।
হে জনজাতিকা কৃপা করুন।
২৯-৭-২১

দলবদল



আজকাল আরামকেদারাও  দেখি
 ছায়াদের কাছে বায়না জুড়ে দেয়
নাগরদোলার সাথে দেখা করে দলবদল করবে।

ধরে নিন সেই দিনটা নবকাকার জন্ম দিন।
এই সব অপাংক্তেয় সম্পর্ক
যা নিতান্তই ফাটা কাঁচের মত।

জোড়া লাগলেই লুকানো চিঠির রক্তাক্ত অক্ষর থেকে
নেমে আসবেন অলৌকিক হিপোপটেমাস।

তিনি কেদারায় বসামাত্র
যুগলমানবী তার ক্ষেত্রফল নিয়ে
দরবার করবেন রানী পিঁপড়ের সাথে।

পাঠক আপনি কোন দলে।
আর ভাবতে থাকুন
মৃত্যু এক অস্থাবর সম্পর্ক।



চাহাৎ



অনিবার্য দার্শনিক উপসংহার নিয়ে বিকেল ঘন হয়ে এলো।

আমাদের ফলপ্রসূ ঋতু গাছে তখনো পাখিরা ফিরে আসেনি।
কে যেন বলে উঠলো  আর এক দান হয়ে যাক।

আমার পোঁটলায় তখনও হাড় থেকে মাংসের গন্ধ মোছেনি।
নাছোড় স্মৃতির পাশে তন্ময় দিনগুলো  ডানা ঝাপটায়।
কাকে বলি আমার খিদে পেয়েছে l
কাকে বলি ছায়াদেরও কিছু স্বপ্ন থাকে।

 অনধর  পোটলাকে বলি এসো
ঘুম থেকে জাগানোর মন্ত্র শিখিয়ে দিই।
 হাড় ও পাখিদের গ্ৰামে মৃত মন্বন্তর
দেখো গোলাপের ফিরিওলা।


২৮-৭-২১


কর্ম 



কোন ঘোড়সওয়ার ছাড়াই
নীল প্রান্তরচিরে দৌড়ে যায় চতুস্পদ।

ঝুঁকে নেমে আসা মোমফালি মেঘ
কিছু পরামর্শ সেরে নিচ্ছে।
আর ফুলেদের রক্তক্ষরন
না জানার ভান করে হেসে ওঠা রোদ্দুর কে বলেছি
বড়ুয়াদের মেয়েটাকে একটু ক্লোরোফিল
ধার দিতে পার।

ততক্ষনে আমার নিলামপটু বান্ধবের সাথে
নিষিদ্ধ হরফের হিল্লে সেরে ফেলি।

২৬-৭-২১

ইজাজত


আজ সকালের ইজাজত নদী।

দুই বাঁকে রুপসী ময়ূরপঙ্খী বক।
তার হৃদয়ের দুই দিকে 
লম্বা ঠোঁট আর দীর্ঘ পদযুগল।

ভাসো মনোনিবেশ
ঘাস ও বীজের মনোকণা।
দাগ লাগা সাদা পোশাক ও নাবিকের
প্রত্ম বিবেক।
অঘটন পটীয়সী ধ্রুবক ঈর্ষাসহচরী।

মেহনতী জল তাকে আজ আতিথ্যে ডেকেছে।


২৫-৭-২১

স্বর ও লিপি


যেন কৃষ্ণ কাজু নক্ষত্র
ফুটে আছে।
এক নিবিড় গলদেশে।

এ কোন ম্লান রশ্মিকথন নয়।
চিরাচরিত পরিতাপ আর বিধুর
গোপন কলা থেকে নেমে আসা অলীক সরিসৃপের
স্বপ্নীল পদচারনা দিয়ে সে কদমপথিক।

যে কাগজেই ঠিকানা লিখি না কেন
প্লুত ভাষ্কর্যের রতিকুমকুমের সংলাপ
মনে হয়।

ভিতরের রেড়ালটা ক্রমাগত ঠকে যায়
কোন এক অরক্ষনীয়ার সন্ধানে।

15-7-21

শব্দ


শবফুল তুমি কিছু বলো।

পরাগ ও চেতনার মাঝে
জেগে থাকা সময়।
 মৃত্যুর ভিতর জেগে থাকা
গোধূলি।
গোধূলির ভেতর জেগে থাকা আলোর উত্তরাধিকার।

আশ্চর্য মৃত্যু
 কথা বলো।
কথা বলো রহস্যবিধুর।
গন্তব্য বলে কিছু হয়না।
এই যে হেমন্তের শ্মশান
সময়ের খুলিতে শৈশব ঢেলে
এক একটি জনপদে 
পদব্রজ ভরিয়ে দিচ্ছে।

কবিতাই তার শব্দ রেনু।

১৮-৭-২১

ঠিকানা



এই গ্ৰামের নাম কোলাহল।

সারি সারি কলা বাগান আর আমন দোলন দিয়ে
কাঙাল হরিনাথ গড়ে নিচ্ছেন মেধাকথন।

তোমাকে চিঠি লেখে সরপুঁটি।
 সাইকেলে বাতাস ভরে দেয় হুতোম বাগদি।
তোমার হারিয়ে যাওয়া পোঁটলা ফিরিয়ে হারান ফকির জন্মের সানাই।

মিতু বাগদি তার ছেলের নাম রেখেছিল
কোহল বরন সমাদ্দার

এমন দেদার আমন্ত্রনের পর 
আমাদের গৃহকোণ উৎসারিত ভ্রম আর অবিভাজ্য
মোহে মূহ্যমান।
বলুন আমার কি করনীয়।
হে প্রগাঢ় গনসভ্যতা আপনার সভ্য সেমিজ থেকে তুয়া পাখির উড়াল মনে রাখবনা বলেই 
আমাদের মিথ্যে কনসার্টের ভেতর বদল করে ফেলেছি  পোষাক আর
শরৎ মেঘের ঠিকানা।

১৬-জুলাই-২১


অপার্থিব



এটি একশো অক্ষর সম্বলিত অব্যবসায়িক খুচরো ধর্মপদ।
এখানে আঁশগন্ধী টোনাটুনির ঘটিত কোন বিরাম চিহ্নের চ-ও পাবেন না।
না পাবেন পানিনির বিশ্রাম কক্ষের খুঁতখুঁতে
স্ত্রী পাহারাদার।
আপনি যেমন খুশি পর্ব ভাগ করুন কিন্তু চারের অধিক হলে কপালে শনি আছে।
এখানে খোলাখুলি যৌনতার দালালদের
মনোবেদনা সম্বলিত অধার্মিক ভাবনাকে
প্রশ্রয় দেওয়া যেতে পারে।

তাপমাত্রা মডারেট লেবেলে ছাড়িয়ে একশো
হলেও মাথায় তারকাঁটা ঢোকানো চলবেনা।
দেখবেন সুপক্ক আতা বীজের ঘুমে রাতের ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে প্রভুত নজর অটুট রাখবেন।
সব ছাড়া যেতে পারে তবে আঁচলের খুঁটে অবস্থিত ভাগ্যাহত শব্দের খয়রাতির ব্যবস্থা যেনো বর্তমান থাকে।
দেখি আপনার এলেমদারী আর হকের মধ্যে কোন করুণার বিকাশ ঘটিতেছে কিনা তার নজরদারী এখন থেকে শুরু হল।


১৫-৭-২১



দর্পন


প্রথাগত অবিবাহিত দর্পন।
যে শুধু নির্মিত ভালবাসার থেকে
অন্ধকার বের করে এনে
মর্গের ডোমকে গোলাপের ভবিতব্য জানাতে
সফল।

তাঁর মুঠোয় কয়েক শো বাবুইয়ের কিচির মিচির।
বাতিকগ্ৰস্ত দারোগার ভিতু ছায়াপথের হারিয়ে যাওয়া পুঁথির অস্পষ্ট আন্দোলিত পৃষ্ঠা।
মেঠো পথে যে বিছিয়ে দিতে পারে
গোটা শরৎ জুড়ে পারিজাতের
নিভৃত স্বপ্নের কোলাজ।

ভেঙে যাওয়া দর্পন থেকে জন্ম নেওয়া
অগনিত জন্মদিন আমাকে চিঠি লেখে।
যেখানে নিবেদন আর গ্ৰহীতার মধ্য বাজতে থাকে
বৃহস্পতিবারের বিকেল  ।

১১-৭-২১

পাঠ


প্রাতরাসের টেবিলে 
মৃতকে পরিবেশন করলেন।


মৃতের সাথে সংলাপে দক্ষ দুজন।
একজন বামে দক্ষ।
আর একজন তপ্ত লোহার থেকে
তুলে আনা দ্রাক্ষা বিশারদ।

অধিচেতনা থেকে উঠে আসা
অসফল জিরাফ চেতনার পাশে
অলৌকিক শালমুড়ি দিয়ে বসে থাকা শীতকাল
এখন জোরে জোরে
পড়তে বসেছে।

তিনি কি নিরুদ্দিষ্টের
রোজনামচা পড়ছিলেন।

3-jul-21

মন


হাওয়া আঁশগন্ধী হয়েছিল কিনা 
কে বলে দেবে।

ওহে রূপসী পাদুকা।
তুমি আজকাল পাখি হয়ে যাও।
ঘাই দাও শীতার্ত মাটিতে।

মাটির হৃদয় থেকে যে আপেল ঝরে
তার নশ্বর দেহে কোনো এক দাঁতের কোলাহল  ।

এখন শরৎকাল ।
নদী ভীষণ আনমনা।


2-7-21


শূন্য 



করুনার পর কোনও শূন্যস্থান বসাও।
ভালোবাসার পর শূন্যস্থান বসাও।

জীবনানন্দ কোনদিন জিজ্ঞেস করবেন না সূর্যমুখী এত হলুদ কেন।

কাতূকুতু প্রিয় দৈবাঙ্গানা।
সে কেন নাভিপাখির পালকে ঢেকে রাখে
সারা শীতকাল।

সব শূন্যেরা ইচ্ছামৃত্যু দাবী করলে
তৃষ্ণার্ত পাখিরা ঘরে ফিরতে ভুলে যায়।

জীবনানন্দের এংলো সুইস রিস্টওয়াচের দুটো
কাঁটাই সেই থেকে বারোটার ঘরে থেমে আছে।

১-জুলাই-২১