Showing posts with label কবিতা কোলাজ. Show all posts
Showing posts with label কবিতা কোলাজ. Show all posts

Tuesday, June 22, 2021

 মহামারী ও অনন্ত ছাদজীবন


- জয়শীলা গুহ বাগচী





(৬)

ছাদ যেভাবে পাহাড়ি পথে রওনা দেয়

আমি সেভাবে পারি না

ছাদের তো কোন নম্বর থাকে না

কিন্তু পাহাড়ে যাবো বলে যখন আমি

কপালে নম্বর পরি

অমনি টক জল

পাহাড় থেকে গড়িয়ে নামে বমির তেতো

ছাদ তখন খানিক লেবু লজেন্স

খানিক ধমক মেশা নিভৃত

ছুঁতে পারি না বলে

একমুঠো শান্তিজল, বিপদতারিণী সুতো

রেখে যায় ঘুমের বালিসে

গেলাস গেলাস পাহাড়ি মেঘ

রাখা থাকে ছোট্ট টেবিলে

গড়িয়ে পড়া বমির একপাশে ছাদ

একপাশে আমি

ঘুমোই...

আমাদের চলন্ত ঘুম ভাঙে না

 

  (৭)

 

আমরা একে অন্যের সেরে ওঠা না বুঝলে

অসুখ প্রবণতা না বুঝলে

জ্বরের বাতাসে সিপ দেবো কী করে

কী করে অস্তিত্ব বদল করে

সম্পর্কে গুলে দেবো সূর্যমুখী রঙ

হে ছাদ...

তোমার অরণ্যে অন্ধ পোকাজীবন

অন্ধ বাস্তুগন্ধ

সব কেমন স্মিত হাসির মতো

সাবধানী গর্তের মতো

নির্জন শ্বাসের আকারে সভ্যতার আবেগটুকু

হে ছাদ...

তোমার মাঝে আমির স্বাদ

আমার মাঝে তোমার চলাফেরা

সব নিরন্তর হোক

ঘুমের স্থিতি হোক

 

(৮)

 

কোথায় যে কীভাবে চেনা হয়ে ওঠে অস্তিত্ব...

যেদিন নারকেল পাতায় সূর্য এসে বসে

খোলা আকাশ পকেটে পুরে

নরম তুমি... আমার ছাদজন্ম...

তিরতিরে রক্তপ্রবণতাকে ধুয়ে মুছে

সহজ কথাবার্তা হ’লে

শেকড়ের আলো হ’লে

আমি ধীরে ধীরে গরমিল মুছতে মুছতে

ছাতিমছায়া

মানুষ-গন্ধ নিতে নিতে অপরিহার্য স্নান

দরজা জানালা ছেড়ে , মিথোজীবীতা ছেড়ে

ছাদজন্ম আমার...

কপালে দিগন্তরেখা এঁকে দাও

মুছে দাও দুহাতের মরীচিকা গাছ 


Monday, June 21, 2021

প্রদীপ চক্রবর্তীর কবিতা



বিষবৃক্ষ ও বঙ্কিমবাবু 


এক .

ঝরাশ্রুতি পাতালতা গুল্মের বিরত চৈত্র 
একাকার তাও হাত , 
এক এক করে বিক্রি হচ্ছে 
নিলাম চলছে নিলাম বালা ছ ' আনা

হাতের কলম উন্নাসিক | 
যদিও অবসাদ - সূত্রে গাঁথা 

প্রারব্ধে বিশ্বাসী তাই 
মেয়েটির ক্যানভাস জুড়ে চোখ : অনপেক্ষ 

যে মেঘবালিকা মরীচিকামতি 
মালতি কেন তবে মধুক্ষরা ?

জন্মাবধি যারা হরিৎ গানের মাতঙ্গ 
সপ্রতিভ আকারহীনার প্রেম  চারুকাজ 
সুদূর  কপিলাবাস্তু নগরে কোন এক সন্ধ্যাস্নানে 
এসে দেখে , জায়গাটা ফাঁকা 
চমৎকার আধুনিক গোষ্ঠে কয়েকটা গরু চরছে 

দুই .

একুশবার বসন্ত বাগানে গ্রীষ্ম আসে 

একুশবার একই নোট পড়ে পড়ে ছাত্ররা উগড়ে দেয় 
বর্ষে বর্ষে দলে দলে , 
চৌষট্টি দলের মার্ খেয়ে 
ওঁম মণিপদ্মে হুঁ  ...

পরাজিত এক সমুদ্রকাহিনীর কাছে 
রতিক্লেদ অবিদ্যায়রত গোবিন্দলাল 
যেন হর্সপাওয়ারে ঘোড়া ছুটছে এমন আজব চিড়িয়া ! 

একটি ফুলের তাৎক্ষণিক মৃত্যু , 
কে - যে কাকে দেউলিয়া করে 

খেউড় বসেছে , চিটেগুড়ে মুখ ডুবিয়ে পোটোপাড়ার পরেশ পাল 

যত আঁকছে ততই চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে 
বর্ষার খুন , 
 ঘুণপোকাদের মতো কে অত বিদ্যাবিলাসী , ভোজনরসিক , মহাকালের দশমহাবিদ্যা ...

তিন . 

পুরোনো পাড়াটা বৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়ে 
ডাকনাম : রোহিনীবিদ্যা 

দরজা ছাড়ো বললেই দরজা ছাড়ি না ভ্রমর 
আমি নট গঙ্গাপদ বসু বা বিকাশ রায় 
চোখের আতসে দেখে নিই অতনুর তনু 
অতলস্পর্শী খাদের কিনারে সুদূর তারাগুলোতে 
কে জ্বালিয়ে দেয় বিরহের আশমানিযান 
নীচের পৃথিবী দূরাগত নদীর মতো 
সবুজ হেমকল্যাণ ...
অচেনা পাখিদের ঝাঁক : ব্যবস্থাদ্রোহী ....

চার .

এক পশলার শেষে 
পারাপারহীন আকাশ 
নিচে কয়েকটা গাছ 
রোহিণীর আঠা গড়িয়ে পড়ছে কষ বেয়ে 
তবু একচুল নড়েনি ভ্রমর 

তাৎক্ষণিক রমণীয় যুদ্ধে ব্যবহৃত 
অস্ত্র শস্ত্র সারি সারি সাজানো আছে 
গন্ধ তেল , চুলের কাঁটা , পুরোনো চিঠির এসেন্স 
দৃশ্যে চারিয়ে গেছে লাল  আভার  অদ্ভুত ভুবন 

আবহমান বাংলা উপন্যাসের হাজারো এক সম্পর্কের শেষে যখন বঙ্কিম বাবু  মুখ তুললেন ,
নিদ্রালু মেয়ে মহলে ঢুকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে গেলো কত শত শরীরী বিষাদ 
বিষ ও বিষয়ের নেকড়ে বা কন্দর্প , 
পূর্ণচন্দ্রমার বিপরীতে কালো ছায়াশরীরী অতৃপ্ত যৌনক্ষুৎকাতর বিধবা প্রেতিনীর দল উড়ে যায় , 
বসন্তপ্রসূন মানুষের ক্ষমতাসংকেতে ...










Sunday, June 20, 2021


 নীলিমা দেবের কবিতা 

নীল থেকে






 

1.

 

হুট করে চেপে ধরেছি বৃষ্টি

       পড়ার মুহূর্তের ঠিক ২ সেঃ আগেই   

 

এখন

 

বৃষ্টি আর নীল

 

নীল আর বৃষ্টি 

 

       ভাঙা তোশকের গুঁড়ি গুঁড়ি সাইকেল  

 

 

2.

 

যেভাবে বৈঠা জানে নৌকোর আরাম 

 

থামে তো থামে না

 

জল মুচড়ে মুচড়ে ১,২,৩,৪

 

নদী ভাসে, জল ডুবে

 

শুকনো নীলে ক্যাজুয়েল হয়ে আসছে এলোমেলো মাটির স্তন

 

হুক আর বৈঠা কিন্তু সিমিলার নয়…… 

 

 

 

 

3.

 

মেসেঞ্জারে লেখা ছিলো

 

“সার্চ”

.

.

.

.

.

 

 

 

কাঁদা পর্যন্ত নেমে গেলাম চাঁদে

 

যতক্ষণ বেরিয়ে এলাম

 

লুকিং গ্লাসে স্লো হয়ে আছে একজোড়া জল ……

 

 

4.

 

 বৃষ্টির নিচে হাত দিলাম

 সব ফোঁটা একসাথে কুঁড়েঘর 

 

 পাগলী আকাশ রটাতে পারছে না রাত

 

  শব্দ সব পড়ে আছে মাটিতে

 

  অলিখিত ……

 

 

 

 




সমীরণ ঘোষের কবিতা 



 কয়েক টুকরো 

হাড়ের বেড়াল লুব্ধকের কুকুরকে ডাকছে
নির্বিশেষ ভাষার সূর্যাস্ত 
মিউ আর ঘেউঘেউ 
জিভের বরফ থেকে বরফের জিভে

তা দিয়ে ফোটানো এই রাতের মাসুম
মা কোমলের। পাহাড় টপকে আনাগোনা
হাড় লিচ্ছবি বংশের। প্রেতের সামান্য 
ঘটনা পুড়ছে লাল ক্ষতে

অপচীয়মান এই ভাবনাবিন্দু। সরলরেখার হাঁস
কাঠের পৃষ্ঠায় বাঁট অল্প দুলছে
সন্দেহবশত ফলা। বোবা।  বিরক্তিসূচক
মাংসের সারিন্দায় বসে ছড়ের বগান

মাথার আকাশে মাছ। লাল বালিয়াড়ি 
পিনে গাঁথা নৈঃশব্দ্যের ঢেউ 
ডাকটিকিটের দেশ। চ্যাটচেটে। আঠার ভূগোল

বোবার নৈঃশব্দ্যে অন্ধ এক নৌকো ঠেলছে

কচুরিপানার বোবা জলকে দোলাচ্ছে। এই শোক
কোপের আঙুলে ফুটে কোপের শালুক
ঝুমকোর তুমিও। কাটা। মুণ্ডসাধনার একপেশে 
খুলি জিভের অবিবেচক। হিসহিসে
গোয়ান্দাপ্রবণ

খাঁজের করাতে জল। নদীর বধির
দু'দিকেই পাখি। রেখার হাঁসুলি। লাল পরিখার
 জিভ তামার বিদ্যুৎ। সাপও হাসছে
 জ্যোৎস্নাবর্বর শিস। লেফাফার রাতের খোলস

হ্যাঁ দিয়ে না-এর সিঁড়িতে কেউ পেরেক পুঁতছে
তাওয়ার জ্যোৎস্না ফুঁটে ঘিলুর অর্ধেক
অর্ধেক সমুদ্রকেলি। লাভার গমক

গানের দোনলা থেকে পাখি ছুড়ি
পিখির পিতল ওড়ে। সিঁধকাটা লোহার আকাশ

১০
কাচের বাক্সে তুমি আমাদের ভ্রূণের নতুন

 কমল সরকারের কবিতা



সহযাপন

(১) সাহচর্য 

তুমি হাত ধরে নিয়ে যাবে —
এই লোভে বারংবার 
পঙ্গু করেছি নিজেকে । 

(২) পথভোলা

তোমার সঙ্গে আরও একটু হাঁটবো বলে
গন্তব্য ভুলে গিয়েছি আমি —

ইচ্ছানুসারে। 

(৩) সাকিন

বস্তুত আমার  ঠিকানা ছিল না কোনো, 
অথচ তোমার সাথে ছায়ায় বসলে
সামান্য গাছতলাকেও মনে হয়েছে
নিজস্ব আশিয়ানা৷ 

(৪) ঘর

চার দেয়ালের এই ক্ষুদ্র আয়োজন,
তুমি এসে পা দিলে যেই
গোটা দুনিয়া তারও চেয়ে
ছোট্ট লেগেছে। 

(৫) যাপন

আমার খরায় বৃষ্টি তুমি
তোমার হিমে আমার ওম,
এই জীবনে ছয়টি ঋতু —
মনে হচ্ছে বড্ড কম!