Showing posts with label অনুবাদ কবিতা. Show all posts
Showing posts with label অনুবাদ কবিতা. Show all posts

Saturday, February 24, 2024

 (নেপালি কবিতা)


‌‌পূজা উপাধ্যায়ের কবিতা
     অনুবাদ: বিলোক শর্মা

১. ফাল্গুনের স্কেচ

এক অঞ্জলি লাল রং দিয়ে
রাঙিয়ে দিলাম আকাশ

এক মুঠো ধূলো
ছড়িয়ে দিলাম বাতাসে

সবুজতায় ভরা
ইতিহাসের বিচ্ছিন্ন স্বপ্ন দিয়ে
এঁকে দিলাম পথ আর উঠানের চিত্র

বেঁচে রইল একটা শুকনো নদী

তাকে তো বহুদিন হল
মনের মধ্যেই বয়ে চলেছি।


২. কবিতা

কবিতা হল
একটা পথ
যেখান থেকে দেখি আমি
জীবনের‌ সৌন্দর্য্য

একটি পথের পেছনেই তো থাকে
পৃথিবীর সব ঐশ্বর্য্য
যেখানে‌ সটান দাড়িয়ে পড়ি আমি
হাতে একটি কবিতা নিয়ে।

পরিচয়:
লখিমপুর, অসমের যুব কবি পূজা উপাধ্যায়, পেশায় শিক্ষিকা। কবির একটি নেপালি কবিতা সংকলন 'অসমর্থ শহর' প্রকাশিত রয়েছে। কিছু সাহিত্যিক পুস্তকের সম্পাদনাও করেছেন।

মাদারীহাট, ডুয়ার্সের সাহিত্যিক বিলোক শর্মা কবি ও অনুবাদক হিসেবে পরিচিত। পেশায় কৃষি আধিকারিক, পাঞ্জাবের জলন্ধরে চাকরীরত। কবির নেপালিতে একটি কবিতা সংকলন ও বাংলায় দুইটি অনুবাদের বই প্রকাশিত রয়েছে।)

 নিজার কাব্বানির ১০টি কবিতা।। 

( ফারহানা রহমান অনূদিত) 


১. যখন ভালোবাসি।। 


যখন ভালোবাসি

নিজকেই মনে হয় সময়ের রাজা 

পৃথিবী এবং এর সবকিছুর মালিক বনে যাই  

এবং নিজের ঘোড়াটির পিঠে চড়ে সূর্যের গভীরে ঢুকে যাই

প্রেমে পড়ে গেলে

আলোর তরল রশ্মি হই

অদৃশ্য চোখের কাছে 

এবং আমার নোটবুকের কবিতাগুলো

হয়ে যায় মেমোসা ও পপি ফুলের প্রান্তর, 


যখনই ভালোবেসে ফেলি 

আমার আঙুলগুলো থেকে ঝর্না প্রবাহিত হয়  

জন্মায় তখন জিভে গুল্মলতা 

 

প্রেমে পড়ে গেলে  

পেড়িয়ে কালের পরিক্রমা 

অনন্তকালের পথে চলে যাই 

যখন নারীর প্রেমে পড়ি  

দুনিয়ার সব গাছপালাগুলো 

আদুল পায়েই ছুটে আসে আমার দিকে... 


(When I Love by Nizar Qabbani)


২. একটি ছোট্ট প্রেমের চিঠি।। 


প্রিয়তমা, আমার অনেক কিছুই বলার আছে

হে আমার মহামূল্যবান, কোথা থেকে শুরু করব বোলো?

তোমার ভেতর যা কিছু আছে তা সবই রাজকীয়

ওগো তুমিই সে যে কী না তাদের তৈরি করা রেশমের মথ 

থেকে আমার কথাগুলোকে অর্থবহ করে তোলো

এই হোলো আমার গান আর এটি আমি

এই ছোট বইটি আমাদেরকে ধারণ করে

আগামীকাল যখন এর পৃষ্ঠাগুলোতে ফিরবো  

একটি প্রদীপ আর্তনাদ করবে

বিছানাটি গান গাইবে

তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে এর অক্ষরগুলো সবুজ হয়ে উঠবে 

এর কমাগুলো প্রান্তসীমায় উড়ে যাবে

তবু এটা বোলো না; কেন ছিল এই যৌবন ? 

(A Brief Love Letter by Nizar Qabbani) 


৩. আলো লণ্ঠনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।। 



লণ্ঠনের চেয়ে আলো গুরুত্বপূর্ণ, 

নোটবুকের চেয়েও বেশি জরুরী হচ্ছে কবিতা, 

আর ঠোঁটের চেয়ে চুমুর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।


তোমাকে লেখা আমার চিঠিগুলো 

আমাদের উভয়ের চেয়ে মহত্ত্বর এবং গুরুত্বপূর্ণ। 

তারাই একমাত্র প্রমাণপত্র 

যেখানে মানুষ আবিষ্কার করবে

তোমার সৌন্দর্য

আর আমার উন্মাদনা।


( Light is More Important Than The Lantern by Nizar Qabbani) 


৪. প্রেম তুলনীয়।। 


হে আমার নারী, আমি তোমার অন্যান্য প্রেমিকদের মতো নই 

অন্য কারও কি উচিত হবে তোমাকে মেঘ এনে দেওয়া?  

যখন আমি তোমাকে বৃষ্টি দেই

তার কি উচিত হবে তোমাকে লণ্ঠন এনে দেওয়া, 

যখন আমি তোমাকে চাঁদটিকেই এনে দেই  

তার কি উচিত হবে তোমাকে গাছের ডালপালাগুলো দেওয়া  

আমি যখন তোমাকে সব গাছগুলোই দেই  

আর অন্য কেউ যদি তোমাকে একটি জাহাজ দেয়

আমি দেবো তোমাকে ভ্রমণ। 


( Love Compared by Nizar Qabbani ) 


৫. ভাষা।।



একজন মানুষ যখন প্রেমে পড়ে

সে কিভাবে পুরানো শব্দগুলোই ব্যবহার করবে? 

একজন নারী কি এমন প্রেমিককে কামনা করবে

যে ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাবিদ হিসেবে মিথ্যে বলে 

আমি যে নারীকে ভালবেসেছিলাম

তাঁকে কিছুই বলিনি

কিন্তু তাঁর জন্য প্রেমের বিশ্লেষণগুলোকে জড় করে 

একটি সুটকেসের ভেতর রেখে দিয়েছিলাম

এবং সমস্ত ভাষা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম।    


( Language by Nizar Qabbani) 


৬. প্রতিবার তোমাকে যখন চুমু দেই।।


যতবার আমি তোমাকে চুমু খাই 

দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর

অনুভব করি

আমি তাড়াহুড়ো করে 

একটি লাল ডাকবাক্সে প্রেমপত্র দিচ্ছি।


( Every Time I Kiss You) 


৭. আমার প্রেমিকা আমাকে জিজ্ঞাসা করে।। 


আমার প্রেমিকা আমার কাছে জানতে চায়

আমার আর আকাশের মধ্যে পার্থক্য কী?

হে আমার প্রেম! পার্থক্য আছে

আর সেটি হচ্ছে 

যখন তুমি হাসো

আমি আকাশের কথা ভুলে যাই। 


( My Lover Asks Me by Nizar Qabbani) 



৮. ওহ আমার প্রেম।। 



ওহ! আমার প্রেম 

তুমি যদি আমার মতো পাগলপ্রায় অবস্থায় থাকতে 

তুমি তোমার সব গহনা ফেলে দিতে  

হাতের সব কাঁকন বেঁচে দিতে

আর আমার চোখের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকতে।  


( Oh, My Love by Nizar Qabbani) 



৯. সমুদ্রে প্রবেশের সময়



শেষ পর্যন্ত প্রেম হোলো 

আর আমরা ঈশ্বরের স্বর্গে ঢুকে পড়লাম

পিছলে পড়লাম 

মাছের মতো

জলের ত্বকের নিচে।

আমরা সমুদ্রের মহামূল্যবান মুক্তারাশি দেখেছি 

আর বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি

অবশেষে ভয়ভীতি ছাড়াই ভালোবাসা হোলো 

চাওয়া-পাওয়াগুলোও কী ভীষণ মিলে গেলো 

ফলে আমিও উজাড় করে দিলাম আর তুমিও তাই দিলে

আর আমরা দুজনেই ছিলাম দুজনের কাছে উন্মুক্ত। 

সবকিছু কী দারুণ সহজে ঘটে গেলো 

ঠিক যেন সুগন্ধি জল দিয়ে লেখার মতো

ঠিক যেন মাটি ফুঁড়ে কোনো এক ঝর্না বয়ে যাওয়ার মতো। 


( On Entering The Sea by Nizar Qabbani) 


 


১০. সংলাপ।।


কখনো বোলো না যে আমার প্রেম 

একটি আংটি অথবা হাতের বালা ছিল 

আমার ভালোবাসা হচ্ছে অবরোধ 

এটি হচ্ছে তাঁদের মতো বেপরোয়া এবং উদ্ধত 

যারা তাদের মৃত্যুর দিকে পাল তোলার অন্বেষণ করে। 

এটি বোলো না যে আমার প্রেম 

একটি চাঁদ ছিল। 

আমার প্রেম ছিল আসলে একটি স্ফুলিঙ্গের বিস্ফোরণ। 


( Dialogue by Nizar Qabbani)


কবি পরিচিতি 

নিজার তৌফিক কাব্বানি একজন সিরিয়ান, কবি, লেখক, প্রকাশক এবং কূটনীতিক ।  তিনি আরব বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত সমসাময়িক কবি এবং সিরিয়ার জাতীয় কবি হিসেবে বিবেচিত। ১৯২৩ সালের ২১ মার্চ  নিজার কাব্বানি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে একটি মধ্যবিত্ত বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আপাত সরল অথচ গভীর ব্যঞ্জনাময় কবিতা লিখে তিনি কবিতাপ্রেমিদের মন্ত্রমুগ্ধ করে  রেখেছিলেন। তাঁর কাব্যশৈলীতে প্রেম, কামোত্তেজকতা, নারীবাদ, ধর্ম এবং আরব জাতীয়তাবাদের চেতনা অন্বেষণ, সরলতা এবং কমনীয়তার সমন্বয় ঘটেছে।

তবে নিজার কাব্বানি নারীমুক্তি ও নারী অধিকারের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার কবিকণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এবং একারণেই তাঁকে নারীবাদী কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়। 


 কাব্বানী 'মিঠনাহ আল-শাহম' নামে দামেস্কের একটি পাড়াতে বেড়ে ওঠেন এবং ১৯৩০ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত দামেস্কের ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কলেজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ১৯৪৫ সালে আইন বিষয়ে স্নাতক হন। পরবর্তীতে  কাব্বানি সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ  করেন।  বৈরুত, কায়রো, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ এবং লন্ডন সহ বেশ কয়েকটি রাজধানী শহরে সাংস্কৃতিক দূত হিসাবে কাজ করেন। ১৯৫৯ সালে, যখন সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়, কাব্বানী চীনের দূতাবাসে ভাইস-সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। তিনি এই বছরগুলিতে প্রচুর লিখেছিলেন এবং এই সময়ের কবিতাগুলি তার সেরা কবিতা ছিল। তিনি ১৯৬৬ সালে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কূটনৈতিক কাজ চালিয়ে যান। তখন তিনি বৈরুতে তার নিজের নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কাব্বারি ৩০ এপ্রিল ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি লন্ডন শহরে মৃত্যুবরণ করেন। 



Tuesday, August 3, 2021

 পাবলো নেরুদার কবিতা

অনুবাদঃ মানিক সাহা




পাবলো নেরুদা (১৯০৪ - ১৯৭৩) প্রকৃত নাম রিকার্ডো এলীসার নেফতালি রিয়েস বাসোয়ালতো। ১৯০৪ সালে দক্ষিণ চিলির এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আর মারা যান ১৯৭৩ সালে, মাত্র ৬৯ বছর বয়সে। তিনি জন্মেছিলেন যে নাম নিয়ে, তা ছিল বেশ দীর্ঘ—রিকার্দো এলিয়েসের নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতো। নেরুদার বাবা চাইতেন না তাঁর পুত্র কবিতা লেখার মতো অলস ও অফলদায়ী কাজ করুক। তাই নিজেকে আড়াল করতে তিনি পাবলো নেরুদা ছদ্মনাম গ্রহন করেন। চেকোস্লাভাকিয়ার ১৯ শতকের প্রধান ও প্রভাবশালী কবি ও সাংবাদিক ইয়ান নেরুদাকে স্মরণ, সম্মান ও অনুসরণ করে তিনি সেই নামটি বেছে নিয়েছিলেন। 


১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজেতা একজন চিলিয় কবি, নেরুদা মাত্র তেরো বছর বয়েসে কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন যখন তিনি বিভিন্ন ধরণের কবিতা লিখতে শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল পরাবাস্তববাদী কবিতা, ঐতিহাসিক মহাকাব্য, প্রকাশ্য রাজনৈতিক ইশতেহার, গদ্য আত্মজীবনী এবং ভালোবাসার কবিতা।নেরুদার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যখন তাঁর বয়স মাত্র সতের বছর এবং খুব দ্রুত তাঁর কবিতার উন্নতি ঘটতে থাকে। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত Twenty Love Poems ang a Song of Despair শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে এখনো সমান বিক্রিত ও জনপ্রিয়কাব্যগ্রন্থ।



অনুদিত এই কবিতা 'Twenty Love Poems and a Song of Despair' থেকে নেওয়া হয়েছে।


*মধ্য গ্রীষ্মের সকাল*


মধ্য গ্রীষ্মের সকাল

ঝড় ঝঞ্ঝায় পরিপূর্ণ। 


বিদায়ের সাদা রুমালের মতো মেঘ ভাসে,

বাতাস তাদের হাতে নিয়ে নাড়াতে নাড়াতে উড়ে যায়।


আমাদের প্রিয় নৈঃশব্দ্যের উপর

বাতাসের অগণন হৃদয় কম্পিত হয়।


যুদ্ধ এবং গানে পরিপূর্ণ ভাষার মতো

গাছপালার আনাচে-কানাচে উৎসব এবং ঐশ্বরিক স্পন্দন

প্রতিধ্বনিত হয়।


বাতাস মৃত পাতাগুলিকে দ্রুত আক্রমনে ছিন্ন করে

পাখীদের বিমোহিত তীরগুলির দিক বদলে দেয়।


বাতাস তাকে এক ঢেউয়ে ফেলে দেয় যাতে কোন ঝড়না নেই

এমন এক বস্তুতে ফেলে যা ভারহীন, তীর্যক অগ্নিশিখা।


তার অসংখ্য চুম্বনের ভার আছড়ে পড়ে, ডুবে যায়,

অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে গ্রীষ্ম-বাতাসের দরজায়।





 *তেমন করেই তোমাকে আমি ভাবি* 


গত শরতকালে তুমি যেমন ছিলে তেমন করেই তোমাকে আমি ভাবি।

তুমি ছিলে ধূসর আড়াল, আর তোমার হৃদয় ছিল অচঞ্চল।

তোমার দৃষ্টিতে ছিল গোধূলির অস্তরাগ 

আর তোমার হৃদয়ের জলে পাতা ঝড়ে পড়েছিল টুপটাপ করে।



লতানো গাছের মতো আমার দু'হাত আকড়ে ধরে

কণ্ঠে ছিল পাতার মর্মর - ধীর, শান্তিময়।



আমার তৃষ্ণা তখন পুড়ছিল বিস্ময় ও সভ্রমের মায়াবী আগুনে

আর আমার আত্মাকে জড়িয়ে নিয়েছিল কোমল নীল কচুরিপানা।


তোমার দৃষ্টির সঞ্চার আমি অনুভব করি, বুঝতে পারি শরতকাল এখনো সুদূরবর্তী: 

ধূসর অবগুণ্ঠন, কাকলি, পাখীর নীড়ের মত মন

যার দিকে আমার গভীর বাসনা গন্তব্য খুঁজে নেয়

আর আমার সুখী চুম্বনগুলি ঝড়ে পড়ে  তপ্ত অঙ্গারের মত।


জাহাজ থেকে দেখা আকাশ। পাহাড় থেকে দেখা খোলা প্রান্তর:

আলোয়, ধোঁয়ায় গড়া তোমার স্মৃতি যেন এক নিস্তরঙ্গ দিঘি!

তোমার দৃষ্টির সীমা অতিক্রম করে, দূরে আরো দূরে, গোধূলির অস্তরাগ।

আর তোমার হৃদয়ে পাক খেয়ে উড়ে যাচ্ছে শুকনো পাতার দল।





 *বিকেলগুলির পিঠে হেলান দিয়ে* 


বিকেলগুলির পিঠে হেলান দিয়ে তোমার সাগরনীল চোখের দিকে

প্রতিদিন আমার করুণ জালগুলি ছুড়ে দিই।


শেষ বিকেলের ছটায় আমার একাকীত্ব দীর্ঘতর ও তপ্ত হয়

তার হাতগুলি ডুবন্ত মানুষের হাতের মতো নড়তে থাকে।


তোমার অমনোযোগী চোখের দিকে আমি লাল সংকেত পাঠাই

বাতিঘরের কাছাকাছি ঘুরে বেড়ানো সমুদ্রের মতো দুটি চোখ।


আমার সুদূরবর্তী নারী, তুমি কেবল অন্ধকার বিছিয়ে দাও,

মাঝে মাঝে সেই অন্ধকার থেকে আশঙ্কার দ্বীপ ভেসে ওঠে।


বিকেলগুলির পিঠে হেলান দিয়ে - যে সাগর তোমার সাগরনীল চোখে কেঁপে ওঠে -

তাতে আমার করুণ জাল ছুড়ে দিই।


তোমাকে ভালোবাসার সময় আমার হৃদয়ের মতো জ্বলে ওঠা

আকাশের প্রথম তারাটিকে রাতের পাখীরা এসে ঠুকরে খায়।


রাত তার ছায়াঘোটকীর পিঠে চড়ে 

স্থলভূমির উপর দিয়ে নীল জড়ির সুতো ছড়িয়ে দেয়।

 দেবলীনা চক্রবর্তীর অনুবাদ কবিতা 




মূল কবিতা : তোমার জন্য
কবি : সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা
অনুবাদ : দেবলীনা চক্রবর্তী

কাঁচের বন্ধ জানলার ওপারে তুমি
বসে আছো মাথা গুঁজে মুখ লুকিয়ে
কি এমন হবে যদি তোমার - আমার মধ্যে
কোন কথা'ই না হয় !

আমার যা বলার আমি এখানেই
আড়ালে দাঁড়িয়ে বলে যাবো
আমার উপস্থিতি শুধুমাত্র
একটা সুগন্ধের মতো ছড়িয়ে
যাবে তোমার ভিতর এবং বাইরে

কারণ তুমি যখন হেঁট করা মাথা তুলবে
তখন বাইরে আমার কোন অবয়ব দেখবে না
এই ধোঁয়াশায় ভরা রাত
আর এক ঈষদ উষ্ণ আঁচ
অনুভব করবে
যা তোমার জন্য ছেড়ে যাবো
নিজেকে নিঃশেষ করে।


মূল কবিতা : ঈশ্বর
কবি : সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা
অনুবাদ : দেবলীনা চক্রবর্তী

বেশ বড় পকেটওয়ালা একটা আলখাল্লা
পড়ে ঈশ্বর আমার কাছে এসেছিলো
আমার মা , আমার বাবা , আমার সন্তান ও স্ত্রী কে
সামান্য খেলনার মতো পকেটে ভরে
চলে গেলো আর
যেতে যেতে বলে গেলো -
যে এত্ত বড় পৃথিবী আছে নাকি
আমার মন ভোলানোর জন্য।
আমি শুনেছি যে
এইভাবে অনেক খেলনার দোকান
উনি খুলে রেখেছেন,

অভাগার কাছে সামান্যই কিছু
পুঁজি আছে অন্ন সংস্থানের জন্য।


মূল কবিতা : রাতের বৃষ্টি
কবি : সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা
অনুবাদ : দেবলীনা চক্রবর্তী

আমার নিশ্বাস দিয়ে মেঘ নির্গত হচ্ছে
চোখের পলকে এসেছে আকাশ নেমে
বাতাসের প্রত্যাঘাত আমার দু'বাহুতে
আজ রাতে বৃষ্টি হবে
তুমি কোথায়?

আমি একটা বিরাট কাঁচের অ্যাকুয়ারিয়াম
বানিয়েছি মেঘের ওপর আকাশের গায় 
যেখানে রং - বেরংয়ের অসংখ্য মাছ আর
সমুদ্রের নীল জল ভরে দিয়েছি।
আজ রাতে ওই অ্যাকুয়ারিয়াম ভেঙে পড়লে
বৃষ্টির এক একটা ফোঁটার সাথে
সেই রঙিন স্বপ্ন ঝরে পড়বে
তুমি কোথায়?

আমি তোমায় ফোঁটায় ফোঁটায় উড়ুক্কু,
জলধারায় উঠছে - নামছে,
সমতলে ছুটছে - হাঁপাচ্ছে
সেই অসংখ্য রঙিন মাছ দেখাবো
যাদের আমি আমার সমগ্র স্বত্তার
উল্লাস দিয়ে গড়েছি।



মূল কবিতা : কোন কোন দুঃখ
কবি : সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা
অনুবাদ : দেবলীনা চক্রবর্তী

মাঝে মাঝেই একটা সুগন্ধ আমার
পাস কাটিয়ে চলে যায়
মাঝে মাঝেই একটা নদী
আমার স্বচক্ষে পূর্ণ হয়ে ওঠে
মাঝে মাঝেই একটা নৌকা
তটে এসে ছুঁয়ে যায়
মাঝে মাঝেই একটা পথ
দূর থেকে আমায় কাছে ডাকে।
আমি যেখানেই থাকি
সেখানেই রয়ে যাই,
যখন সেখানে কোন দেবী মূর্তি
রূপ ধূলোর ওপর গড়ে ওঠে।

মাঝে মাঝেই চাঁদের টুকরো
নিজের পকেটে খুঁজে পাই,
কাঠবিড়ালি গাছের ডালে
বসে সূর্য্য'কে ধরে খায়।
মাঝে মধ্যেই এই দুনিয়া
মটরের দানার মতো
একটা হাতের তালুতে ধরে যায়।
আমি যেখানেই থাকি সেখান
থেকে আসি সরে,
যখন মাঝে মধ্যে রাত পিপড়ের সারির
মতো বুকে হেঁটে ধেয়ে আসে।

কিছু কিছু মুখের হাসি
একটা ঠাণ্ডা হাওয়ার মত প্রশান্তি দেয়
কোন কোন দৃষ্টি অটুট মনে হয়
কিছু কিছু কথা চট্টানের মতো ধারালো হয়
কোন কোন নৈশব্দ
আমাকে ঢেকে দেয়।
আমি যেখানেই থাকি
সেখান থেকে বিদায় নি
যখন কোন দুঃখ আমার সঙ্গ নেয়।




মূল কবিতা : পরিশেষে
কবি : সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা
অনুবাদ : দেবলীনা চক্রবর্তী

আমি আর কিছুই বলতে চাই না
  এখন শুধু শুনতে চাই
  একটা বলিষ্ঠ - সত্যি আওয়াজ
  যদি কোথাও থেকে থাকে , তাই।

যেরূপ
পূর্বে আমার যত বলা কথা
যত প্রলাপ
যত অভিব্যাক্তি
অনন্ত শূন্যে পাক খেয়ে
ফিরে এসেছে
আমি এখন সেই অনন্ত মৌনতায় সমাহিত হতে চাই
যা আসলে মৃত্যু

"সে মৃত্যুর পূর্বে কিছু বলেছিলো
কিন্তু কেউ তা শুনতেই পাই নি "

এর চেয়ে ঢের সৌভাগ্যশালী তিনি

"যিনি কোন কথা না বলেই প্রাণ হারালো"


কবি পরিচিতি :

সর্বেশ্বর দয়াল সক্সেনা ১৫ ডিসেম্বর ১৯২৭ সালে উত্তর প্রদেশে বস্তি জেলায় এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বস্তি , বারানসি ও এলাহাবাদে তার উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী।তিনি গল্প , উপন্যাস , নাটক , শিশু সাহিত্য ও নিবন্ধ জাতীয় ভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী বিস্তার করেছেন।
কিছু সময় স্কুল শিক্ষকের পদে নিযুক্ত ছিলেন , কিছুদিন আকাশবাণী তে সমাচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। দিনমান ও প্রয়াগ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে কাজ করেন। ১৯৮৩ সালে তাঁর কবিতা সংগ্রহ ' খুঁটিও পর টাংয়ে লোক ' শীর্ষক এর জন্য সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত হয়।
তার লেখা ভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।২৪ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে তাঁর প্রয়াণ হয়।

 

Sunday, August 1, 2021


অনুবাদক - সজল কুমার মাইতি



 তুষারস্নাত সন্ধ্যায় বনরাজির মাঝে 


( রবার্ট ফ্রস্ট এর কবিতা " Stopping by Woods on a Snowy Evening" এর বাংলা অনুবাদ)

মনে হয় এই বনরাজি আমি চিনি।

এই গাঁয়েই তো সে থাকে;

তুষারাবৃত বনরাজি দেখতে 

আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে না তুমি।


বনরাজি আর বরফ জমা সরোবরের মাঝে 

সন্ধ্যায় ঘন অন্ধকার নামে 

আমার ছোট্ট ঘোড়া হ্রেষা রবে

খুঁজে বেড়ায় প্রান্ত শেষের ঠিকানা।


সে তার গলঘন্টিতে দেয় মৃদু নাড়া 

হয়তো জানতে চায় কোন ভুল হোল কিনা 

কেবল অন্য এক শব্দ বয়ে যায় 

সে তো বাতাস আর তুষারের ঝরা।


ঘন গভীর অন্ধকার সুন্দরী বনরাজি

কিন্তু আমাকে তো আমার কথা রাখতে হবে 

আমাকে অনেক কিছু করতে হবে 

আমার অনেক কিছু করা এখনো বাকি।


এ কি খবর শুনছি?

(জোসেফ স্যামুয়েল এর কবিতা ' O What is the news?' এর বাংলা অনুবাদ )



ও! এ কি খবর - আমি ভয় পেয়ে যাই

উহানে কেবল মরছে মানুষ মরছে?

বন্ধু, এ তো সাধারণ জ্বর 

সেই জ্বরে সবাই কেমন হারিয়ে যাচ্ছে।


কি ভয়ংকর সংবাদ শুনতে পাই

হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে?

বন্ধু কি ভয়ানক মিথ্যা প্রচার চলছে

কেবলই ভূয়ো খবর রটছে রটছে।


ওহ! আমি দেখি শব শকটের সারি

পেছনে শুধুই শিশুদের কান্নার হাহাকার?

বন্ধু মোর, এ তো কেবল সাধারণ ছোঁয়াচে জ্বর

আমরা তো জানি কেউই পাব না রেহাই।


এ কি মহামারি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে

বজ্র বেষ্টনী দিয়ে আমা সবে বাঁধছে?

বন্ধু মোর, এ কি শুধু সাধারণ ফ্লু জ্বর 

হয়তো বা নতুন কোন ভয়ংকর জীবাণু।


আমাদের কি আছে যথেষ্ট মুখাবরনী আর রক্ষাবরনী

পারবো কি রক্ষা করতে সতত সেবারত আমাদের সেবিকাদের?

বন্ধু মোর আমরা সে কথাও ভেবেছি

আমরা সতত তৈরি হয়েই থেকেছি।

হায়! এ পথ দিয়ে এ সব কি চলে যায় 

শবযাত্রার সারি যে মন্থর গতিতে এগিয়ে যায়  

বন্ধু মোর এরা সব আমাদেরই চিকিৎসক 

তাদের বিধবা পত্নীসকল করে হাহাকার।


এখন আমি ডাক্তার কোথায় খুঁজে পাই?

এ জ্বর কেবলই বাড়ছে তো বাড়ছেই

বন্ধু মোর, এখন ডাক্তার খুঁজে পাবে না তুমি 

ধৈর্য ধর, সুস্থ তুমি হবেই।


আমার মাথায় জ্বলছে আগুন কানে বাজে আওয়াজ 

প্রাণ বায়ু হচ্ছে ছোট রুদ্ধ হচ্ছে শ্বাস।

হাইড্রোক্লোরোকুইন দিয়ে চালাও চেষ্টা বন্ধু 

হয়তো আমি ও বাঁচবো না আর।


এই প্রানঘাতী রোগ হয়তো খাবে সবে গিলে

খুঁড়তে হবে কবরের পর কবর 

ফুসফুস আমার ভরেছে ফেনময় তরলে

 শ্বাস অবরুদ্ধ হয়েছে গরলে।


লেখক পরিচিতি - ড. সজল কুমার মাইতি

ড. সজল কুমার মাইতি প্রায় দ্বিশতাব্দী প্রাচীন 'হুগলী মহসীন কলেজ' এর বানিজ্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। এটি একটি সরকারি কলেজ। সরকারি বদলী নীতি অনুযায়ী এই কলেজের আগে দার্জিলিং সরকারি কলেজ ও কলকাতার গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ বহু বছর পাঠ দানের অভিজ্ঞতা আছে।  তেত্রিশ বছরের অধিক কাল শিক্ষকতা কাজে রত। বহু বছর সাহিত্য চর্চায় লিপ্ত থাকলেও লেখক হিসেবে আত্ম প্রকাশ সিনিয়র সিটিজেন হওয়ার পর। যদিও বিষয়ের গবেষক হিসেবে গবেষণামূলক বহু লেখা বিভিন্ন নামী জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সাহিত্যের আঙিনায় লেখক হিসেবে নবাগত। লেখার বিষয় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ। ভ্রমন অতি প্রিয় হবি। ভ্রমনমূলক লেখা ও কিছু কিছু আছে। লেখকের কিছু গল্প, কবিতা দেশের ও বিদেশের অন্তর্জাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী কন্যা সহ ছোট্ট পরিবারের আবাসস্থল কলকাতার সল্টলেক নগরী। পেশার বাইরে ও কিছু সমাজ সেবামূলক কাজে যুক্ত।

Tuesday, June 22, 2021

পাবলো নেরুদার কবিতা


অনুবাদঃ মানিক সাহা 





পাবলো নেরুদা (১৯০৪ - ১৯৭৩) প্রকৃত নাম রিকার্ডো এলীসার নেফতালি রিয়েস বাসোয়ালতো।তিনি তাঁর বাবার জন্য পাবলো নেরুদা ছদ্মনাম গ্রহন করেছিলেন।


১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজেতা একজন চিলিয় কবি, কুটনীতিবিদ ও রাজনী ছিলেন।বিদ। নেরুদা মাত্র তেরো বছর বয়েসে কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন যখন তিনি বিভিন্ন ধরণের কবিতা লিখতে শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল পরাবাস্তববাদী কবিতা, ঐতিহাসিক মহাকাব্য, প্রকাশ্য রাজনৈতিক ইশতেহার, গদ্য আত্মজীবনী এবং ভালোবাসার কবিতা।নেরুদার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যখন তাঁর বয়স মাত্র সতের বছর এবং খুব দ্রুত তাঁর কবিতার উন্নতি ঘটতে থাকে। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত Twenty Love Poems ang a Song of Despair শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে এখনো সমান বিক্রিত ও জনপ্রিয়কাব্যগ্রন্থ।


নেরুদা ১৯৭১ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 


অনুদিত এই কবিতাদুটি 'Twenty Love Poems and a Song of Despair' থেকে নেওয়া হয়েছে।



এক নারীর শরীর 


এক নারীর শরীর, ফর্সা গোঁড়ালি, ফর্সা দুই উরু,

তোমাকে সমর্পণে রাজী এক বিশ্ব মনে হয়।

আমার খড়খড়ে চাষা-শরীর তোমাকে খুঁড়ে চলে

এবং মাটির গভীর থেকে লাফিয়ে ওঠা সন্তান বানিয়ে নেয়।


আমি ছিলাম সুরঙ্গের মতো একা। পাখি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল,

এবং রাত হিংস্র আক্রমণে ভাসিয়ে নিয়ে যেত আমায়।

নিজেকে বাঁচাতে আমি তোমাকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করেছিলাম,

আমার ধণুকে তীরের মতো, আমার গুলতিতে পাথরের মতো ছিলে তুমি।


কিন্তু প্রতিহিংসার সময় কেটে যায়, এবং আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলি।

তোমার এই শরীর চামড়ার, শ্যাওলার, আকাঙ্খা  ও তীব্র দুধের। 

ওহ স্তনের ওই পানপাত্রগুলি! ওহ উদাস চোখগুলি!

ওহ জঙ্ঘার গোলাপগুলি! ওহ তোমার কণ্ঠস্বর,  ধীর ও করুণ!


আমার নারীর এই শরীর, তোমার স্বর্গীয় লাবণ্যে আমি বেঁচে থাকবো।

আমার তৃষ্ণা, অন্তহীন বাসনা, আমার পরিবর্তনশীল পথ!

এই অন্ধকার নদীচর যেখানে অনন্ত তৃষ্ণা বয়ে চলে 

এবং ক্লান্তি তার পিছু পিছু চলে, এবং যন্ত্রণা অসীম।






আহ পাইনের বিশালত্ব


আহ পাইনের বিশালত্ব, স্রোত ভেঙে পড়ার ধ্বনি, 

আলোর ধীর খেলা, নির্জন ঘন্টা,

তোমার চোখে গোধুলির আলো এসে পড়ে, খেলনা পুতুল,

মাটির খোলস, যাতে এই পৃথিবী গান গায়!


তোমার ভেতর নদী গান গায় এবং তোমার ইচ্ছে মতো আমার আত্মা 

তাতে বয়ে চলে, এবং তাকে তুমি ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি পাঠিয়ে দাও।

তোমার আশার ধণুকে আমার পথ

এবং উন্মত্ত হয়ে আমি আমার তীরগুলি ছুড়ে দেবো।


চারদিকে তোমার কুয়াশার কোমর

এবং তোমার নৈশব্দ্য আমার আর্ত সময়কে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়;

আমার চুম্বনগুলি নোঙর ফেলে, আর আমার চটচটে আকাঙ্খা 

তোমার স্বচ্ছ পাথরের হাতের সঙ্গে তোমারই ভেতরে আশ্রয় নেয়।


আহ তোমার রহস্যময় কন্ঠ যা প্রেমের কথা বলে এবং 

প্রতিধ্বনিত ও মৃতপ্রায় গোধুলিতে ডুবে যায়!

এভাবেই গভীর ও নির্জন  সময়ে মাঠে মাঠে দেখেছি

বাতাসের মুখে গমের কানগুলি প্রতিধ্বনিতে আন্দোলিত হয়।

Saturday, July 25, 2020

অনুবাদ কবিতায় শুভঙ্কর পাল 

জল ছুঁয়ে 
ফিলিপা ইয়া ডিভিলিয়ার্স (সাউথ আফ্রিকান কবি )

জল ছুঁলেই
প্রতিদিন আশ্চর্যেরা
গড়িয়ে যায় নর্দমার ভিতর
আবেগের বিন্দু বিন্দু

ভালো লাগা ইচ্ছেগুলো
দীর্ঘ প্রতীক্ষায়
উপচে পড়ে
শুকনো পৃথিবীর মুখের উপর
আসলে জল সহজাত সূত্রেই নেমে আসে

আর জল ছুঁয়ে
আমদের নাভিজন্ম ও নাবিক জীবন
(অনুবাদ -শুভঙ্কর পাল )