Tuesday, March 31, 2020

কাব্যগ্রন্থ
তাপস দাস



রিয়া, সতীর দেহের মতো প্রতিটি কাব্যগ্রন্থে
তোমাকে রেখে দেব
একটু নীল আলোতে সবগুলো বই উদ্ভাসিত হবে...
আমার চেতনা শহর থেকে অনেকটা দূরে বসে থাকে নিভৃতে 
তুমি প্রেমিকা থেকে কতকিছু হয়ে যাও
আমার কান্নার ইচ্ছেতে স্নান করিয়ে উড়িয়ে দাও 
অসুস্থ কোন পাখিকে...
জলাশয়ের ওপর চোখের পাতা ফেলে 
বাঁচিয়ে রাখো জলের প্রাণীকে
চোখ খুজতে থাকি, সারাদিন একা হন্যে হয়ে..
ইটস্ কম্পিøকেটেড
শুভ্রনীল সাগর



সবকিছু এত প্রকাশিত তবু কোথাও ‘লাইক’ দিচ্ছি না আমি!
আমার ইচ্ছে, তোমার আরও অবচেতন পড়ে ফেলা...

তোমার মৃত কোষ ও টিপ বোতাম তুমি ইমেজ আকারে দিতে পারো;
আমি সব ফরম্যাটই পড়তে পরি। দিন দুয়েক যাক, এত জলদি কীসের?
মতামত আমি মনখুশি খিলিপানে সাজিয়ে দেবো...

পাখি উড়ছে, দৃশ্য উড়ছে না
পাখি ও দৃশ্যেরা Ñ
আমার নীল দেয়ালে ছায়া হচ্ছে....

মৌন ফাগুন  
ছবি ধর 



আমিও  চললাম  সেখানে 
 যেখানে পাখীদের  দরবার বসে  রোজ   
অর্গানিক বাগিচা  ভরপুর  অম্লজানে  l
দিনভর  কুহুতান  টুকরো  টুকরো   দানা  আর  সবুজের  টানে l
 পাহাড়ের ঢাল  বেয়ে  ঝর্ণা  কলমে  লেখা  জল নামে  সেখানে l
চখাচখি   আর  বালিহাঁস  লুকোচুরি  খেলে  
 দ্বীপ  জেগে থাকা  নদীর  মাঝখানে l
যেখানে শিমুল - পলাশ বাতাসে  ছড়ায়  ফাগুন
কৃষ্ণচূড়ার  গাছে  গাছে  ফুলের  পাপড়িতে   যেনো  জ্বলছে  আগুন l
   পাতায় -পাতায়  করতালির গুঞ্জন 
কলহ নেই কোনো  , চুপকথা  অন্তহীন  l
এক অদ্ভুত  বসন্ত  বিরাজমান   - 
আমি  একনিষ্ঠ   মৌন শ্রোতা  হবো  সেই  ফাগুনের l


বিকাশ দাস(বিল্টু)-এর কবিতা  


বসন্ত প্রেমের অনন্ত প্রেমিক হবো  
বিকাশ দাস(বিল্টু)




একটা স্বাধীন রাজ্য গড়বো।স্বৈরাচারী নয়।-বসন্ত বিলাসী।

   প্রেমমাখা বুনো পথ ধরে গামারের বন থেকে ঝরা পাতার আওয়াজ শুনবো।মৃদু হাওয়ায় কোয়েল দোয়েল কোকিলের কাকলি-কুহুতানে বসন্ত প্রেমের অনন্ত প্রেমিক হবো। 

   শিমূল কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি কোঁচায় ভরে  পলাশ তলার দিকে যাব।সেখানে বসন্তরানী ময়ূরবন থেকে সুরভী ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে আমার অপেক্ষায়--

মুঠো সুবাসের ঘ্রানে আবিররাঙা মনে ঢেলে দিব কোঁচাভরা পাপড়ি।-তুলে নিয়ে আবারও উড়িয়ে দিবো।-ঢেলা-উড়ার খেলায় গোধূলির শেষ আলোতে কবিতার সাথে কথা বলব।

পাতার গালিচার বানানো সিংহাসনে আমিই হবো রাজা।

ঘোষনা করব সর্গবে:"আজ বসন্ত।বসন্তরানী রানীর বেশে সোঁদা মাটির ঘ্রাণ নিয়ে থেকে যেতে চায় আরও কিছুদিন।থাকতে দাও।কর মুকুব।পলাশ শিমূল রোপন কর আরও।কোকিলের ভাষায় কথা বল।মুক্ত  হউক এই করদ রাজ্য।"

                    -আজ যে বসন্ত
দাবানল 
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় 


গহন রাত্রি পেরিয়ে উদ্দাম সুখায়ত তোমার বন্ধনী আমাকে নিয়ে যায় সম্মোহিত ব্যারাকে ৷ সুকুমারী চালে খুলে যায় ভোরের আগল ৷ সারারাত  আমার গা থেকে খসে পড়েছে যে পাপড়িরা , তাদের কুড়িয়ে নিয়ে , একেএকে জুড়ে দিই শরীরের খাঁজে ৷ তবু প্রতিনিয়ত তোমার স্পর্শের অনুচ্চারিত অনুরণন আচ্ছন্ন করে রাখে আমার বোধকে ৷ থিতানো রাত্রির গায়ে মুহূর্তের আমিষ ক্যালিগ্রাফি ৷  তরুদের বাকলের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে বাসি ঘাম , ভাপ ওঠা নিঃশ্বাস ৷ ভৈরবী স্রোতে তোমার পরিযায়ী গমন ছিন্ন করে অস্হায়ী নোঙর ৷ 
আমি বারুদের গ্রাস গিলে আগলাচ্ছি আমায় ৷  
ঝরা পাতার বুকেও যে আগুন আছে প্রমাণ পাবে আসন্ন গ্রীষ্মে দাবানলের সময় ৷ 

আস্তিক্যবাদ
মিতালি চক্রবর্তী


প্রতিবারের সাধনটি বিপরীত খোঁজে
অহরাত্রি নিজেকে নিঃশেষ করে প্রদীপশিখাটির মত


প্রত্যাশা ভুলে যেতে না পারলেই সহগমনটি একাকীত্ব ‌মেখে নেয় আবেগী আস্কারায়,


অথচ ধূপছায়ার আশেপাশে কিছুটা কল্পযাপন ‌আশ্রিতের শরণ পেতে চায়,
আজ এখানে মেঘলা আকাশ ইচ্ছা করছে বৃষ্টি

অনেক দূরে অন্য কোথাও আলোবাসার
সৃষ্টি


ইথার বেয়ে আমার কাছে আসছে তোমার ছোঁয়া

এভাবেই প্রতিপল চলতে পারে আলোর
দেওয়া নেওয়া।

ভাবতে চাওয়ার মাঝেই কোনও একান্ত নির্জনে


একটি কবিতা জন্ম নিয়েছে একটি মনের কোণে।


প্রতিপদী চাঁদের মতো,


না বলা কথাগুলোর দমবন্ধ হয়ে আসে
অগনিত বারণের ভিড়ে


অযাচিত, কিংবা কষ্টকল্পিত

সুমন মল্লিকের দীর্ঘ কবিতা 



তিস্তা নদীর তীরে 
সুমন মল্লিক


মেঘলা আকাশে লেখা হয়
পুরনো দিনের কথা – তোমার কথা মনে পড়ে
পিপাসা এখনও আগেরই মতো সতেজ
শুধু আরেকটা পিপাসার সাথে তার আর আলিঙ্গন নেই
এই বালুকাবেলায় নেই কোন অন্তরালের অবগাহন
তবু ভাল লাগে স্মৃতি জাগানো বাতাসের প্রেষণা

এখন আর খুঁজে পাব না জানি
ক্ষরস্রোতা আবেগবাহার, তীরে বসে তাই
স্বপ্নতারা গুনি, একটা কমলা রঙের শাড়ি
আমাকে ঢেকে নয়, আমার শরীরে
গোধূলির রাঙা আলো নীরবে এনে দেয়
উদাসী উল্লাসের মৌনব্রত

তোমার কি আজও মনে পড়ে 
সাত সারসের সাঁতার ? আনন্দতন্দ্রার ঋদ্ধি ?
আমি নিয়তির পেছনে দাঁড়িয়ে
ছারখার করি মায়াবিতান – দশ বসন্তের
সরল শান্ত নির্বাসন আর
তোমার অবশিষ্ট হিন্দোলে রাখি যাপনের শঙ্খচূড়

নদী যেমন ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব
সেরকম কোন নদী নেই আমার 
ডাল-ভাত জুটে যায় কোনমতে, ছুটে চলে
চিতার আগুনের তেজ সারা শরীরে
একবুক বেদনায় দাঁড়িয়েও
মনে পড়ে তোমার-আমার অমেয় সংবেদনা

দোষ কখনও দিইনি তোমাকে
আমারও কি কোন ভুল ছিল ? জানি না
হয়তো বৃত্তের বাইরে আরেকটা বৃত্ত ছিলই
ভালবাসায় ধ্রূবতারা ছিল – তার ভেতরে ছিল
গ্রহণের আঁধার – আমরা বুঝিনি
আমরা ধ্বংসের মাঝেই শুয়ে ছিলাম একাকার হয়ে

গুলমার শ্যামল ছায়ায় তোমাকে
উপহার দেব তালপাতার কুঁড়েঘর – এই ইচ্ছে
ইচ্ছেই থেকে গেল, জ্যোৎস্না রাতেও তো
করা হল না একবারও বোকামিমাখা চন্দ্রস্নান
তিস্তা জানে, ব্যর্থ ছেলে আর তার প্রেমিকা
একদিন ঠিক দুই গোলার্ধে বন্দি হয়ে যায়