Monday, April 30, 2018


আগামীর আলো

বিকাশ সাহা
==============

অবক্ষয়ী সমাজে ক্ষয়িষু মানসিকতার,
ক্ষমতা দখলের এ এক নগ্ন লড়াই।
উন্মুক্ত আকাশের নিচে বারুদের খোল,
আর স্বজনহারাদের আর্তনাদ।
হার্মাদদের নৃশংসতায় বিদীর্ণ আজ,
নিষ্পাপের হৃদপিন্ড।
নরপিশাচের বর্বরতায়,
ভুলুন্ঠিত নারীর নিরাপত্তা,সম্মান আর সম্ভ্রম।
কলুষিত সমাজের হিংস্র থাবায়,
আক্রান্ত আজ মনুষ্যত্ব।
বর্বরতার সাথে অসম লড়াইয়ে,
পরাভূত আজ মনুষ্যত্ববোধ।
অন্ধকারে নিমজ্জমান সমাজে,
আলোর দিশারী হতে ব্যর্থ আজ
মোমের মিছিল।

এক নবসূর্য উদিত হোক,
উদিত হোক প্রতিটি হৃদয়ে।
হিংস্রতা আর বর্বরতার কালো ছায়া,
দূরীভূত হোক নবসূর্যের ছটায়।
রচিত হোক এক নতুন দিগন্তের
আগামীর তরে।।
জলীয় জীবন 
==========
রাজশ্রী ব্যানার্জী 



সময়ের ঢাল বেয়ে দিনগত পাপক্ষয় ।
লবণাক্ত সম্পর্ক চিনেছে স্বার্থের প্রতিবিম্ব,
রক্ত,মাংস ,মজ্জা ছিন্নবিচ্ছিন্ন প্রহেলিকা,
অভ্যাসের দাস হয়ে লড়াই করাকেই বলে বেঁচে থাকা,
ঘরে বাইরে এমনকি বিছানায়-ও চলছে একই ছকের খেলা,
জলীয় সম্পর্ক এক আধার থেকে আর এক আধারের রূপ নেয়,
বিবেকের পাশে শুয়ে থাকে অবাঞ্ছিত আকাঙ্ক্ষারা ,
চুলচেরা আপোস কাজিয়া নিরন্তর,
জিরোতে থাকা জীবন বন্ধ্যা নদীর মত ফুরিয়ে আসে,
তবু প্রতিদিন মনে হয় ধোঁয়াশা কাটলেই সকাল ৷


বিরহসংলগ্ন
----------------
বিপ্লব সসরকার

খোলা উঠোনের মতো 
আত্মকেন্দ্রিকতা নিয়ে বসে থাকি 

আমার আত্মমগ্নতাগুলো বাতাসে ঝাপটা মেরে 
উড়ে যায় ৯ নং ওয়ার্ড 

অগোছালো সম্পর্কগুলো নিয়ে রোজকার
মতো খেলা করে যখন ফুড়ুৎ পাখি--

                     মৌনকথার দাহ দেখি আচ্ছন্ন মেঘের বুকে 




মৃণালিনীর কবিতা 

“বাড়ি- গল্পের শুরু শেষের কথা কাহিনি”


১.উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তোলে ছয় বাই বারো পিলারের চারটি দেওয়াল
স্বপ্নগুলো কল্পনার রঙে সবুজ শ্যাওলা
আবেশের ঘোরে জমাট বাঁধতে বাঁধতে মহাসাগরে
                        ডুব দিয়ে তুলে আনি মুক্তো।

২.ঋতু বদল প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম-বারোমাস্যা।
এক মিনিটেই পূর্ণ-অপূর্ণতার প্রতিফলন প্রতিসরণ
পাট ভাঙা শাড়ির নতুন গন্ধ মেখে ভেজা চুলের টপ্ টপ্
                    মাতাল ঝরা বিন্দু বিন্দু শিশির ফোঁটা
ডুবরীর ডুব চকচকে মুক্তোয় প্রশান্তিতে চোখের কর্ণিকা।

৩.দেওয়ালের হলদে দাগে কাঁচা পাকা রঙের ছবিতে কোলাজ
 সাক্ষী দেবদারুর কচি পাতা প্রসব মাতোয়ারা মন মেজাজ
               নম্বই দিনে জিহ্বার স্বাদ ৯০ ডিগ্রি বৈপরীত্য
চিলকা হ্রদে ঘোলাটে জল, ভুবতে চায় নতুন স্বচ্ছ ভালোবাসা।

৪.উত্তেজনার চেয়ে নীরবতা শ্রেয়, অপমান অন্তরালে মুখ উঁচিয়ে থাকে
নেতিয়ে যাওয়া ভালোবাসা লাউ গাছের ডগায় স্বপ্ন সাজিয়ে সাজিয়ে
নতুন পৃথিবীতে বেড়ে ওঠে- হিরণ্যজলে
আশার বিন্দু বিন্দু জমা হয় ভাঙ্গা মনের স্বচ্ছ দেওয়ালে।

৫.দেওয়ালে দেওয়ালে চির শব্দের ভূমিকম্পন মৃদু জোড়ালো চিৎকার।
হলদে কোলাজ। মেঝেতে শীৎকার! অব্যক্ত কথারা শূন্যময়!
শূন্যময় পৃথিবীর আশ্বাস ক্যানেলের পাশের সবুজে অসহায়।
শির ছেঁড়া চুলের পালতোলা জাহাজ খোলা হাওয়ায় ভাসে
গাছেরা এখন চুপ, চোখে চোখে কথা, গাছ মাটি আকাশ নীরব দর্শক।

৬.সূর্যের উদয় অস্ত ঋতু পরিবর্তনের কারণ হলে!
চাঁদের পূর্ণিমা-অমাবস্যা, গোলাকার বা কাঁটারি অঙ্কের দোড়গোরায়!
বাড়ির রূপ রঙ সাজগোছ বাস্তুর কী পজিসন?
সমাধানের তাগিদে অঙ্কের অন্দর মহলে নির্ভুল ফরমূলার অবৈধ প্রবেশ
জীবন নামক অঙ্কের সমাধান খুঁজতে খুঁজতে খন্ড ঈশ্বর আর পূর্ণ দর্শন।

৭.ভাব অঙ্কের সঙ্গম তেল আর জল
ধরে নেয়া যায় পুরোটা, অধরা ভাসমান। বিক্রিয়াহীন।
ক্যালেন্ডার ঝুলছে, ঝুলতে ঝুলতে শেষে- প্রস্হান
প্রবেশের পথে আলোতে উৎসুক দৃষ্টির শ্যেন।

৮.সরু দড়ি ছেঁড়ার গল্পগুলো পুরনো কোলাহল অনুররণ তোলে
ব্যর্থ মুখের হাই- ঘুম পাড়ানিয়া গান।
ছেঁড়া পাতে আজও হয়নি উচ্ছিষ্টের ভোজন
বাড়ি গুটিয়ে রাখে, ইঙ্গিত সারমর্ম।

৯.আকাশের তারা কাঁচ পোকাদের দীর্ঘশ্বাসে ঝরে পড়ে শুকনো রজনীগন্ধা
হাটবাজারে কাকতারুয়াদের ভিড়।
দুদিকে মুখোমুখি বাসিন্দা
একদিকের রাস্তা নির্দিষ্ট নিশ্চিত। আর অন্যদিকের শূন্যতাময় অনিশ্চিত!
১০.পালাবদলের দিন শুরু- স্বপ্ন থেকে গাঁটছড়ায় বাস্তব
রজনীগন্ধায় শুরু কিন্তু ফুলের দাম বেশি তুলনায় জীবন্ত নারীর
আবার অতীতের গল্প শুরু হয়
মন ভাঙ্গার সান্ত্বনার আস্তানা বাথরুম হলরুমে সম্মান হরণ
গায়ের হলুদ রঙ মিশে যায় চিরকালের ঘরোয়া দ্বন্দ্ব
স্মৃতির শুকনো গন্ধ জড়িয়ে থাকে
বাড়ির জীবন গল্পের শাখা-প্রশাখা চাপা আর্তনাদে
                   জড়িয়ে থাকে আদিম মাটিতে।

নীলাব্জ চক্রবর্তীর কবিতা 

সাদাকালো কয়েকটা বেলুন 



সেতু জুড়ে কয়েকটা সাদাকালো বেলুন
ভাঙা দশক
বাই বাই
সম্পর্ক ভেবে কুড়িয়ে আনা দুপুর
কেমন জড়িয়ে যাচ্ছে আঙুলে

***

সেভাবে ভাষার কাছে
ঘন হয়ে ওঠে সিনট্যাক্স
শব্দ
জুম
বড়জোর দৃশ্যগুলোর স্যোয়াপিং
এই যে জল-কে রঙ ভাবছি
চামড়া-কে রঙ ভাবছি
আর দেখছি
বিশ্বাস লিখে রাখা
প্রতিটা পংক্তিতে কেমন ফাঁপ ধরে আছে

***

ঋতু অবধি গড়িয়ে আসছে ব্যবহার
অথচ বোতামের আগেই
জেগে উঠল তার লালচে ঘর
সারাদিন ধরে
একটা টেবিল পেরিয়ে যাওয়া স্নায়ু

***

আমি তাকে ফেলে দিচ্ছি
পরিস্থিতি নামের একটা ঘন বারান্দা থেকে
সমকাল থেকে
লক্ষ করছি
অধিকারের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে
একটা রঙ-করা দিন...

Sunday, April 1, 2018

কবিতা করিডোর , মার্চ সংখ্যা , ২০১৮

প্রচ্ছদ : অভিশ্রুতি রায় 
অলংকরণের চিত্রগুলো ইন্টারনেট থেকে নেয়া ও তার ঋণ স্বীকার করা হচ্ছে 
সম্পাদক : শুভঙ্কর পাল 
সহ সম্পাদক : সব্যসাচী ঘোষ 
উত্তর -পূর্বাঞ্চল বিভাগের সম্পাদক - রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ 
বাংলাদেশ বিভাগের সম্পাদক - ফারহানা রহমান 

সম্পাদকীয় : 
থেকে থেকে ঋতু রাজের গায়ে দমকা হওয়ায় গা জুড়িয়ে আসে । মাথার উপরে নিরন্তর ঘুরে চলেছে সিলিং ফ্যান । পেয়ালার চুমুকে চুমুকে উঠে আসুক কবিতা , গল্প, অনুগল্প , মুক্তগদ্য , কবিতা বিষয়ক গদ্য , প্রবন্ধ , অনুবাদ কবিতা আরো অনেক লেখা । কবিতা করিডোর এর ব্যাপ্তি ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়ছে । তার সঙ্গে জুড়ে গেছে দুটি নতুন বিভাগ । আড্ডা করিডোর ও খনন করিডোর এই দুটি বিভাগকে সাজিয়ে তুলেছে সব্যসাচী । সবটা মিলে মন্দ কাটবে না এই বসন্ত । ইতিমধ্যে সিকিমের পাহাড়ে ছেয়ে গেছে গুরাস ও রঙের বাহারি মুখ । আর যদি কিছু ভুল ত্রুটি থাকে সেখান থেকেই নতুন করে শিক্ষা নেবো ।আর এমন দিনে একটু একটু সময় নিয়ে খুলে দেখি কবিতা করিডোর ।

ধন্যবাদান্তে
শুভঙ্কর পাল
সম্পাদক -কবিতা করিডোর
**প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , কবিতা করিডোরে প্রকাশিত কোন লেখা সম্বন্ধীয় দায় সম্পাদকের নয় ।
অনুবাদ কবিতা 
শুভঙ্কর সাহা 
পার্থক্য 
                         রবার্ট কেলি


   কী ভাবে পার্থক্যটা তৈরি করতে পারি
   ভ্রূকুটি করে জানতে চাইল যুবক ছেলেটি
   যখন দুঃখ বেদনা আর যন্ত্রণা 
   ভরে দিচ্ছে  দিন প্রতিটি।
   অনিশ্চয়তায় ভরা একটা দেশ
   হাঁটু মুড়ে চলা একটা দেশ পিছে
   কী ভাবে পার্থক্যটা তৈরি করতে পারি 
   এটুকুই শুধু জানতে চাই তোমার কাছে ।

   পার্থক্যটা তুমি কী ভাবে তৈরি করবে
   কৌতূহলী বৃদ্ধ এবার চাইল জানতে 
   আমাদের মানুষেরা তো নুয়ে পড়া 
   বিচ্ছিন্ন সময়ের খেয়ালে।
   মানুষের হৃদয় সব অন্ধকারে মোড়া
   সূর্যালোক মিলিয়ে যায় ছায়ায় 
   তুমি কী ভাবে পার্থক্যটা তৈরি করবে?
   বদল কি আসবে, কোন আশায়?

   কী ভাবে আমরা তৈরি করব পার্থক্যটা 
   দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে সৈনিক ক্লান্ত 
   একটার পর একটা যুদ্ধ তো চলছেই
   উঁচু করে ধরে রাখা পতাকা অবিশ্রান্ত ।
   ধীরে সময় এগিয়ে চলে দেখি
   কেমন ভাবে বদলে যায় মরু বালি
   কী ভাবে পারি বদলাতে
   কী ভাবে পরিকল্পনার কথা বলি?

   কী ভাবে তুমি পার্থক্যটা তৈরি করেছিলে
   উত্তরে বলে ওঠে সেই প্রাজ্ঞ মানুষটি
   কোন স্মৃতি তুমি বয়ে নিয়ে যাবে 
   ভবিষ্যতের কোন প্রশান্ত আনন্দটি?
   যখন মাইলের পর মাইল জুড়ে শিশুদের হাসি
   আলো জ্বালিয়ে রাখবে এক একটা দিন
   তুমি জানবে তুমি পেরেছ পার্থক্যটা তৈরি করতে 
   নিশ্চিত যেন যাবার আগে আসবে সুদিন।

রবার্ট কেলি: একজন আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈনিক এবং কবি। যুদ্ধ এবং যুদ্ধের বাস্তবতা তাঁর কবিতার বিষয় । ২০০৭ সালে আফগানিস্তানে সৈনিক  হিসেবে কাজ করেছেন তিনি ।
   মূল কবিতা: A Difference